ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে ০২ রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:
আরও পড়ুন:
০২ রমজান: বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের শেষ সময়সূচি
রমজান ও তারিখ
সেহরির শেষ সময় (ঢাকা)
ইফতারের সময় (ঢাকা)
০২ রমজান, ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার)
ভোর ৫:১১ মিনিট
সন্ধ্যা ৫:৫৮ মিনিট
আরও পড়ুন:
বিভাগ (Division)
সেহরির শেষ সময় (Sehri End)
ইফতারের সময় (Iftar Time)
ঢাকা (Dhaka)
ভোর ৫:১১
সন্ধ্যা ৫:৫৮
চট্টগ্রাম (Chattogram)
ভোর ৫:০৬
সন্ধ্যা ৫:৫২
সিলেট (Sylhet)
ভোর ৫:০৪
সন্ধ্যা ৫:৫২
রাজশাহী (Rajshahi)
ভোর ৫:১৭
সন্ধ্যা ৬:০৫
খুলনা (Khulna)
ভোর ৫:১৫
সন্ধ্যা ৬:০১
বরিশাল (Barishal)
ভোর ৫:১৩
সন্ধ্যা ৫:৫৯
রংপুর (Rangpur)
ভোর ৫:১৫
সন্ধ্যা ৬:০৩
ময়মনসিংহ (Mymensingh)
ভোর ৫:১১
সন্ধ্যা ৫:৫৮
সতর্কতা: দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সাথে সর্বোচ্চ কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ হতে পারে। উপরে উল্লেখিত সময়গুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান শহরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিখুঁত সময়ের জন্য স্থানীয় মসজিদের আজানের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উত্তম।
আরও পড়ুন:
সতর্কতা: যে ৭ কারণে রোজা ভেঙে যায়
ইফতারের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলে রোজা নষ্ট না হয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে রোজা ভঙ্গের ৭টি প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- ইচ্ছাকৃত পানাহার (Eating & Drinking): সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেলে বা পান করলে রোজা ভেঙে যায়।
- খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ (Nutritional Injection): শরীরে গ্লুকোজ বা পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন এবং রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হয়।
- সিঙ্গা লাগানো (Cupping): হাদিস অনুযায়ী সিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করলে রোজা ভেঙে যাওয়ার বিধান রয়েছে।
- ইচ্ছাকৃত বমি করা (Intentional Vomiting): নিজে চেষ্টা করে মুখ ভরে বমি করলে রোজা ভেঙে যায়।
- স্ত্রী সহবাস করা (Intercourse): রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায় এবং এর কাফফারা আদায় করতে হয়।
- ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত (Ejaculation): হস্তমৈথুন বা স্পর্শের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়।
- হায়েজ ও নেফাস (Menstruation): নারীদের ঋতুস্রাব শুরু হলে ওই দিনের রোজা বাতিল হয়ে যায়।
রহমত ও মাগফিরাতের মাস রমজান: হাদিসের আলোকে রোজার অফুরন্ত ফজিলত
মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি কেবল সংযম ও ত্যাগের মাস নয়, বরং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। পবিত্র কোরআন নাজিলের এই মাসে রোজাদারের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা। হাদিসের আলোকে রমজানের সেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ফজিলতগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
১. গুনাহ মাফের মহিমান্বিত সুযোগ (Opportunity for Forgiveness)
রমজান মাস মূলত তওবা এবং পাপ থেকে পবিত্র হওয়ার মাস। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (সহীহ বুখারী: ১৯০১)।
২. জান্নাতের বিশেষ প্রবেশদ্বার ‘রাইয়ান’ (The Gate of Ar-Rayyan)
রোজাদারদের জন্য পরকালে বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা রেখেছেন আল্লাহ তাআলা। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "জান্নাতে 'রাইয়ান' নামক একটি দরজা আছে, কিয়ামতের দিন কেবল রোজা পালনকারীরাই সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।" (সহীহ বুখারী: ১৮৯৬)।
৩. সেহরিতে বরকত ও শক্তি (Blessings in Suhoor)
রোজার প্রস্তুতির জন্য সেহরি খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।" (সহীহ বুখারী: ১৯২৩)। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতেও, সেহরি সারাদিন শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
৪. চারিত্রিক পবিত্রতা ও আত্মসংযম (Character and Self-restraint)
রোজা কেবল পানাহার বর্জনের নাম নয়, বরং এটি জিহ্বা ও মনের পবিত্রতা রক্ষার ঢাল। হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি (রোজা রেখে) মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।" (সহীহ বুখারী: ১৯০৩)। তাই রোজার প্রকৃত সওয়াব পেতে হলে বিবাদ ও মিথ্যা পরিহার করা অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:
বিষয়
হাদিসের শিক্ষা ও ফজিলত
ক্ষমা (Forgiveness)
ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রোজা রাখলে পেছনের সব গুনাহ মাফ হয়।
পুরস্কার (Reward)
জান্নাতের 'রাইয়ান' দরজা দিয়ে প্রবেশের বিশেষ অধিকার।
সেহরি (Suhoor)
এটি একটি বরকতপূর্ণ সুন্নাহ এবং শারীরিক শক্তির উৎস।
ইফতার (Iftar)
ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে দুই আনন্দের মুহূর্ত।
সতর্কতা (Precaution)
মিথ্যা ও ঝগড়া পরিহার না করলে রোজা কেবল উপবাসই থেকে যায়।
আরও পড়ুন:





