আরও পড়ুন:
ভাগ্য নির্ধারণ কি এই রাতে হয়? (Does destiny get decided tonight)
অনেকে মনে করেন এ রাতে আগামী এক বছরের রিজিক ও হায়াত-মউত লেখা হয়। কিন্তু পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো ‘লাইলাতুল কদর’ (Lailatul Qadr), যা রমজান মাসে অবস্থিত।
আল্লাহ তাআলা সুরা দুখানে বলেন: فِیۡهَا یُفۡرَقُ كُلُّ اَمۡرٍ حَكِیۡمٍ (সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।) — [সুরা দুখান: ৪]
মুফাসসিরগণের মতে, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে কদরের রাতকেই বোঝানো হয়েছে। কারণ কোরআন নাজিল হয়েছে রমজান মাসে, আর কোরআন নাজিলের রাতেই মহাজাগতিক সব গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা হয়। সুতরাং শবেবরাতকে ভাগ্যরজনী বলা ভিত্তিহীন।
আরও পড়ুন:
এই রাতের প্রকৃত ফজিলত (True Virtues of this Night)
ভাগ্য নির্ধারণ না হলেও এই রাতটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা (Forgiveness) ও দায়মুক্তির এক বিশেষ রজনী।
হাদিসে এসেছে: إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ (আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীবাসীর দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া তার সৃষ্টির সবাইকে ক্ষমা করে দেন।) — [ইবনে মাজাহ: ১৩৯০]
সূর্যাস্তের পর থেকে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ক্ষমা, রিজিক ও রোগমুক্তির জন্য ডাকতে থাকেন। তাই এ রাতের প্রধান আমল হলো ব্যক্তিগতভাবে তাওবা-ইস্তিগফার (Repentance) ও নফল ইবাদত করা।
আরও পড়ুন:
শবে বরাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
প্রশ্ন: শবে বরাত শব্দের অর্থ কী? (What is the meaning of Shab-e-Barat?)
উত্তর: 'শব' একটি ফার্সি শব্দ যার অর্থ রাত এবং 'বরাত' শব্দের অর্থ মুক্তি বা দায়মুক্তি। অর্থাৎ শবেবরাত মানে মুক্তির রাত।
প্রশ্ন: শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান কবে? (When is Shab-e-Barat 2026?)
উত্তর: শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই হলো শবেবরাত। ২০২৬ সালে এটি বাংলাদেশে ১৩ অথবা ১৪ই ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) হতে পারে।
প্রশ্ন: শবে বরাত কি আসলেই ভাগ্য নির্ধারণের রাত? (Is Shab-e-Barat the night of destiny?)
উত্তর: না। পবিত্র কোরআনের আলোকে ভাগ্য নির্ধারিত হয় ‘লাইলাতুল কদরে’ (রমজান মাসে)। শবেবরাত মূলত ক্ষমা ও ইবাদতের রাত।
প্রশ্ন: শবেবরাতে কি রোজা রাখা সুন্নত? (Is it Sunnah to fast on Shab-e-Barat?)
উত্তর: হাদিসে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১৫ই শাবান অর্থাৎ শবেবরাতের পরের দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন: এই রাতে ইবাদতের বিশেষ কোনো পদ্ধতি আছে কি? (Is there any specific way to pray?)
উত্তর: এই রাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নামাজের নিয়ম নেই। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘ সময় দোয়া করা উত্তম।
প্রশ্ন: শবে বরাতে কত রাকাত নামাজ পড়তে হয়? (How many rakat in Shab-e-Barat prayer?)
উত্তর: নির্দিষ্ট কোনো রাকাত নেই। আপনি ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়তে পারেন।
প্রশ্ন: মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী কেন ক্ষমা পায় না? (Why are Mushriks and malicious people not forgiven?)
উত্তর: শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ এবং অন্তরের বিদ্বেষ মানুষের ইবাদত কবুলের পথে অন্তরায়। তাই এই রাতে ক্ষমা পেতে হলে মন পরিষ্কার রাখা জরুরি।
প্রশ্ন: শবে বরাতে কি কবর জিয়ারত করা জরুরি? (Is it mandatory to visit graveyards?)
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে দোয়া করেছিলেন। তাই সময় সুযোগ থাকলে মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য কবর জিয়ারত করা জায়েজ ও সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন: এই রাতে হালুয়া-রুটি বানানো কি ইবাদত? (Is making Halwa-Ruti a religious act?)
উত্তর: না, হালুয়া-রুটি বা বিশেষ খাবারের সাথে শবেবরাতের ইবাদতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সামাজিক বা আঞ্চলিক রীতি মাত্র।
প্রশ্ন: শবে বরাতে আলোকসজ্জা বা আতশবাজি করা কি জায়েজ? (Is fireworks or illumination allowed?)
উত্তর: না। আতশবাজি ও আলোকসজ্জা অপচয় এবং অনর্থক কাজ, যা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন: শবে বরাতের রাতে জামাতে নামাজ পড়া কি উত্তম? (Should we pray in congregation?)
উত্তর: শবে বরাতের নফল ইবাদত একাকী বা ব্যক্তিগতভাবে বাসায় করা বেশি উত্তম। তবে মসজিদে সাধারণ নামাজগুলো জামাতে পড়া আবশ্যিক।
প্রশ্ন: মহিলারা কি মসজিদে গিয়ে ইবাদত করতে পারবেন? (Can women pray in the mosque?)
উত্তর: মহিলাদের জন্য নিজ গৃহে পর্দার সাথে নিভৃতে ইবাদত করা সবচেয়ে বেশি সওয়াবের এবং নিরাপদ।
প্রশ্ন: শবে বরাত ও শবে কদরের মধ্যে পার্থক্য কী? (Difference between Shab-e-Barat and Shab-e-Qadr?)
উত্তর: শবে বরাত শাবান মাসে হয় এবং এটি মূলত সাধারণ ক্ষমার রাত। শবে কদর রমজানে হয় এবং এটি ভাগ্য নির্ধারণ ও হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত।
প্রশ্ন: এই রাতে দোয়া করলে কি নিশ্চিত কবুল হয়? (Are prayers definitely accepted tonight?)
উত্তর: হাদিসে এসেছে, আল্লাহ এ রাতে বান্দাদের ডাকেন। তাই একনিষ্ঠ মনে তওবা ও দোয়া করলে কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
প্রশ্ন: শবে বরাতের আমল নিয়ে বির্তক কেন হয়? (Why is there controversy about Shab-e-Barat?)
উত্তর: কিছু দুর্বল হাদিস এবং সমাজে প্রচলিত কিছু বিদআতি বা ভুল প্রথার কারণে আলেমদের মধ্যে আমল ও গুরুত্ব নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে ইবাদতের গুরুত্ব নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।




