১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম। সরকার পতনের এক দফা থেকে শুরু করে কখনও রোডমার্চ, কখনও হরতাল-অবরোধের মতো-কঠোর কর্মসূচি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ আওয়ামী সরকারের সময়ে অধিকার আদায়ে মামলা নির্যাতন উপেক্ষা করে এভাবেই রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল-বিএনপি।
অবশেষে ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে পতন হয় হাসিনা সরকারের। রাজনীতির মাঠে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। চলতি বছরের, ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিএনপি এবার সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আগামী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নড়েচড়ে বসেছে। ক্ষমতাসীন দলটির আগামীর নেতৃত্ব ঠিক করতে আয়োজন করা হচ্ছে জাতীয় কাউন্সিল। এছাড়াও ঢেলে সাজানো হবে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে।
অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের খবরে দলের নেতা-কর্মীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বেড়েছে কয়েক গুণ।
রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক আন্দোলনে বিগত দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এবারের কমিটিতে যেমন ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের সামনে রাখা হবে, তেমনি মূল্যায়ন করা হবে অভিজ্ঞদেরও।
বিএনপির নেতাকর্মীদের একজন বলেন, ‘যারা নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং দলকে পরিচালনা করার তার রাজনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে—এ ধরনের নেতৃত্ব বাছাই করতে আমাদের দল কখনোই ভুল করে নাই।’
অন্য আরেকজন কর্মী বলেন, ‘পার্টির দুঃসময়ে পার্টির পাশে ছিলো, পার্টিকে ওন করেছিল, তাদের পার্টির প্রতি একটা কমিটমেন্ট আছে এবং তারা পার্টিকে ভালোবাসে। তারা বিএনপির দুঃসময়ে তারা বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাবে না—আমি বিশ্বাস করি।’
আরও পড়ুন:
ঢাকা মহানগরের নেতারা বলছেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি আগামী দিনে যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় এবার দলকে ঢেলে সাজানো জরুরি।
বিএনপি দলের একজন নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচনেও আমাদের কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে থেকে তারা কিন্তু কিছু অপরাধ নীতিও করেছে। এই যে এই সমস্ত মোনাফেক যারা আছে, তাদেরকে দল চিহ্নিত করতে হবে, দল থেকে তাদেরকে বের করে দিতে হবে।’
অন্য আরেকজন নেতা বলেন, ‘দলের যারা নেতৃত্ব নেতৃবৃন্দ সরকারে থাকবে, তারা দেশ, দেশের মানুষ, জাতির জন্য কাজ করবে। কিন্তু আমাদের বিএনপির যে সংগঠন, সেটার জন্য আলাদা নেতৃবৃন্দ দরকার। আমি মনে করি যে এটা দুটোই আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই দেয়া হবে ঢাকা মহানগরের কমিটি।
তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটি অনেকগুলি আছে, যেখানে নাই বা যেখানে আহ্বায়ক কমিটি আছে সেটা পূর্ণাঙ্গ করতে হবে। খুব দ্রুত করবো আমরা এ কাজটা। শীঘ্রই সিটি করপোরেশন নির্বাচনও হবে। তো আমরা তো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই করবো ইনশাল্লাহ। তো সে-সেটার জন্যও আমাদের সংগঠনটাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন, আরও সুসংহত করা প্রয়োজন।’
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে সারাদেশে সাংগঠনিক কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য দ্রুত কিছু কাজ করাটা আমাদের বিবেচনায় মনে হয়েছে যে অধিক অগ্রাধিকার। তো সেটা হচ্ছে এবং পাশাপাশি আমরা আমাদের কাউন্সিলের জন্যও কিছু প্রস্তুতি চলতেছে।’
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সবশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।




