রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এসেছি— শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির

শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুরসহ বিরোধীদলীয় নেতারা
শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুরসহ বিরোধীদলীয় নেতারা | ছবি: সংগৃহীত
0

ভাষা শহিদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়েছেন সংসদে বিরোধী ১১ দলীয় জোটের প্রধান নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় নেতারা। আগে কখনো ফুল দিতে না আসলেও এবার কী মনে করে আসলেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদ মিনারে ফুল দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেব এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে, তাই আমি এসেছি।

ভাষা শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তার এ কর্মসূচির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কারণ, জামায়াতে ইসলামী আগে কখনো শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জামায়াত আমির জানান, শুধু ভাষা শহিদ নয়, বিভিন্ন আন্দোলনে শহিদ সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা।

তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষা শহিদদের আগে ৪৭-এ (পাকিস্তান সৃষ্টি) যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, বায়ান্নর শহিদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহিদদের স্মরণ করি। ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করি, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, বিশেষ করে যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ওসমান হাদিকে আমরা স্মরণ করি।’

আরও পড়ুন:

ভাষা শহিদ দিবসে জামায়াতে ইসলামী শহিদ মিনারে ফুল দেয়ার কোনো কর্মসূচি এবারও দলীয়ভাবে রাখেনি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানের শহিদ মিনারে যাওয়ার কথা দলটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল।

এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মোট আসন ৭৭টি। ডা. শফিকুর এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর কিছু সময় পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহিদ বেদিতে ফুল দেন শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা। ফুল দেয়ার পর শহিদ মিনারে দাঁড়িয়েই ভাষা শহিদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন তারা।

এসএইচ