নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিল। আবু সাঈদ আমাদের অহংকার, জাতীর অহংকার। তোমাকে স্যালুট। তোমার জীবনের বিনিময়ে নতুন দেশ দিয়েছো। তুমি গর্বিত মায়ের সন্তান। নারীদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, সেই পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করা হবে। মায়ের অপমান কেউ সহ্য করবে না। মায়ের অপমান হলে যুবকরা আবারও গর্জে উঠবে।’
তিনি তার ‘এক্স আইডি’ হ্যাকের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চাই, তারা আমার পুরাতন আইডি হ্যাক করে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করছে। এরই মধ্যে তারা আটকও হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
জেলার কৃষির বিষয়েও আলোকপাত করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘নওগাঁয় ১০ ভাগের ১ ভাগ খাদ্যশস্য উৎপাদন করে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়, কিন্তু এ জেলা উন্নয়ন হয়নি। শহরের প্রধান সড়ক ফোরলেন এবং মানসম্মত হাসপাতাল হওয়া দরকার। আগামীতে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হলে জেলার উন্নয়ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ জেলার কৃষক বা খামারারি ফসল তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করায় দাম পায় না, সারাবছর মানুষ খেতে পারে না। ধান ও ফল গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংরক্ষণাগার করা হবে, যেন সারাবছর ফসল সংরক্ষণ করে রাখা যায়। পুরো নর্থবেঙ্গলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে। একাধিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।’
পর্যটন নিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় সম্ভবনাময় অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে পর্যটন খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা নওগাঁর পর্যটন নিয়ে কাজ করতে চাই।’
দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ ৫৫ বছরে বার বার শহিদ হয়েছে। যারা ক্ষমতায় গিয়েছে নিজেরা লুটেপুটে খেয়েছে। জনগণে টাকা চুরি ও লুণ্ঠন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা চুরি করা হয়েছে। যারা জনগনের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা অর্থ পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর নতুন করে চুরি করতে দেয়া হবে না।’
আরও পড়ুন:
বেকারদের উদ্যেশে তিনি বলেন, ‘আগস্টে যেসব ছেলেমেয়ে ও যুবকরা রাস্তায় নেমে সংগ্রাম করেছিল তারা কখনো বেকার ভাতা চায়নি, কিন্তু এখন কেন দিতে চাওয়া হচ্ছে। তবে আমরা তাদের পেশায় দক্ষ করে গড়ে তুলবো। কাজ করো, দেশ গড়ো; দেশ তোমরা বদলে দাও।’
তিনি আরও বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। কোন মেজোরিটি-মাইনোরিটি মানবো না, কোন বৈষম্য চলবে না। মুসলমান কেন ভয়ে থাকবে। সব অনিয়ম গুড়িয়ে দেয়া হবে। ইনসাফের দাবী পুরন করার জন্য অবহেলিত এলাকার আগে উন্নয়ন করা হবে।’
বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। ১২টায় বক্তব্য শেষ করেন এবং পরে প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতিক তুলে দেন প্রধান অতিথি।
এ সভার সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪(মান্দা) আসনের প্রার্থী খ.ম আব্দুর রাকিব।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন— ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, এবি পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন, ছাত্রশিবিবের কেন্দ্রীয় সাবেক সেক্রেটারি আ.স.ম মামুন শাহিন, মাওলানা মুফতি ইসরাফিল আলম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব এবং শহিদ ফাহমিনের মা কাজী নুলুন মাখমিনসহ অন্যরা।





