আপাতত যাত্রা সমাপ্তি, দ্রুত নেমে যান। লোকাল বাস ভালো করেই জানে, কার কখন প্রয়োজন শেষ আর কখন নামিয়ে দিতে হয়। যাত্রীরাও অভ্যস্ত; জানে গন্তব্য মানেই শেষ নয়, স্রেফ নামিয়ে দেয়া। তবুও, যাত্রা। নির্বাচনও কি আলাদা কিছু!
ধোঁয়া, হর্ন আর হাঁকডাকের ভেতর বেঁচে থাকার যুদ্ধ। এটাই শহরের শ্বাসপ্রশ্বাস। এ শব্দের ভেতরেই চুপিসারে ঢুকে পড়ে আরেকটা শব্দ। নির্বাচনের, প্রতিশ্রুতির শব্দ।
এ প্রতিশ্রুতি ছাপা হয় কাগজে। কালি শুকানোর আগেই দেয়ালে আশ্বাসের ফেরী। নির্বাচনি আচরণবিধি বলছে, মাইকের শব্দ ৬০ ডেসিবেলের বেশি নয়। কিন্তু ঢাকার স্বাভাবিক শব্দই ছুঁয়ে ফেলে ৯০, কখনো ১০০ ডেসিবেল। এ শহরে তাহলে নিয়মটা কার জন্য?
আরও পড়ুন:
নিয়মটা এখানে শুভঙ্করের ফাঁকি। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাসযোগ্য শহরের গল্প বারবার ঘুরে ফিরে আসে নির্বাচনের মৌসুমে। এ শহরে রাস্তা ঠিক করার কথা বলা হয় মাইকে। কিন্তু, পায়ের নিচেই বেমালুম গর্ত। জলাবদ্ধতা দূর করার আশ্বাস শোনা যায় পোস্টারে। বর্ষা এলেই সেই আশ্বাস ডুবে যায় ছপছপ হাঁটার শব্দে।
মিছিল, স্লোগান আর প্রতিশ্রুতির ওঠে রাজপথে। অথচ, ভোটারদের গল্পটা নিদারুণ একাকীত্বের।
ছাব্বিশের নির্বাচনের সুর উঠছে। ঐক্যের ডাক আর গগনবিদারী স্লোগান।। তবে, প্রশ্ন একটাই, মাইকের শব্দ আর স্লোগান থামার পর শহরের এ আদিম শব্দগুলো কি বদলাবে?
নাকি গন্তব্য শেষে সেই নামিয়ে দেয়া যাত্রীর মতো, ভোটাররা আবার একা হয়ে যাবে নিজ শহরেই? প্রশ্নটা শব্দের নয়, সদিচ্ছার।





