‘ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের সম্মান-মর্যাদা রক্ষা হয়, এমন আইনেই দেশ চলবে’

খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ | ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ
0

জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের সব ধর্মের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা হয়, এমন আইনেই দেশ পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে দলটি। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ (বুধবার, ১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

এসময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এ দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’

প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় উল্লেখ করা হয় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিট বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে আলোচনার সারমর্ম তুলে ধরেন লটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার বা সরকার পরিচালনার সুযোগ পান তাহলে কোন আইনে আপনারা দেশ চালাবেন? এটাই ছিল তাদের মূল প্রশ্ন। আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান যে আইন সে আইনেই বাংলাদেশ চলবে, যেখানে সব ধর্মের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা হবে। এ আইনটিই যথেষ্ট এখন।’

এহসানুল মাহবুব বলেন, ‘জোট নিয়ে কোনো সংশয় নেই, যে কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয় সমাধান করার চেষ্টা করছি। জোট নিয়ে আলোচনায় সর্বোচ্চ উদারতা দেখাচ্ছে জামায়াত। জোটের সব দলগুলোর মধ্যে এখনো সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।’

আমিরে জামায়াতের সঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাশ, বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ড. গর্ডনসহ আরও অনেকে।

এসএস