ইসলামী ঘরনার দলগুলো একবাক্সে ভোট টানতে বেশ আগে থেকে একাট্টা। সেজন্য গঠন করা হয় ৮ দলীয় জোট। জোটবদ্ধ লড়াই নাকি একক শক্তি প্রদর্শন এমন দোলাচলে শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে সামিল হয় এনসিপি। সবশেষ যুক্ত হয় এবি পার্টি। শেষ পর্যন্ত ১১ দলে চূড়ান্ত হয় জোট। কিন্তু বাকি রয়ে যায় আসন সমঝোতা।
বিশেষ করে জোটে এনসিপি যুক্ত হওয়ায় পাল্টে যায় আসন বন্টনের প্রাথমিক রূপরেখা। সেই আলোচনা এখনো চলছে। তবে খসড়া তালিকায় ১৯০টি আসন নিজের জন্য রেখেছে জামায়াত ইসলামী। এনসিপিকে দেয়া হয়েছে ৩০টি আসন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু সাঈদ লিওন বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আমাদের ৩০টি আসন কনফার্ম হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে। ৩০টি আসনে আমাদের প্রার্থী মোটামুটি কনফার্ম। আমাদের প্রার্থীরা প্রস্তুত। শীঘ্রই আজকালের মধ্যে ঘোষণা আসবে।’
আরও পড়ুন:
বাকি ৮০টি আসনের বড় অংশীদার চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের জন্য বরাদ্দ ৪০টি আসন। যদিও তাদের দাবি আরও বেশি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি, এলডিপি ৭টি, খেলাফত মজলিস ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বিডিপি পাবে ২টি আসন। যদিও এনসিপি ছাড়া কারো সাথেই আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি জামায়াতের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. মো. তাহের বলেন, ‘এনসিপির ৩০টি আসন এটা সঠিক। এটা অনেকটা ফাইনাল হয়ে গেছে। বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
জোটের বাকি শরিকদের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই, শেষ সময়ে এসে যোগ দেয়া এনসিপিকে ৩০টি আসন দেয়ায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। তারা বলছে, এই বন্দোবস্ত জোটের শরিকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম বলেছেন আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করি নি। আমরা আট দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করেছি। তো উনাকে যদি আসন দিতেই হয় আট দল সম্মিলিতভাবে আসন দিবে। একক যদি কোনো দল দিয়ে থাকে তাহলে আমি মনে করি নির্বাচনি সমঝোতার সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
আসন ভাগাভাগির এই জটিল সমীকরণ সমাধান করে ১১ দল কি পারবে একই ছাতার নিচে দাঁড়াতে, নাকি ভোটের আগেই চিড় ধরবে সমঝোতায় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।





