বাজার , কাঁচাবাজার
দেশে এখন

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর মসলার বাজার

কোরবানি ঈদ ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর মসলার বাজার। পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনে সমৃদ্ধ হলেও অন্যান্য মসলার বেশিরভাগই আমদানি করে আনা হয় বাজারে। এক্ষেত্রে খরচ বাবদ মসলার বাড়তি দামের বোঝা টানতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।

রাজশাহীর নওহাটার রিপন হোটেলে চলছে মাংস রান্নার প্রস্তুতি। খাবারকে সুস্বাদু করতে ব্যবহার করা হচ্ছে লবণ, তেল ছাড়াও নানা উপকরণ। আর এই মাংস রান্নার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে তাতে এক এক করে যোগ করা হচ্ছে পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, হলুদ ও মরিচ গুড়া, তেজপাতা এবং দারচিনি-এলাচি-লবঙ্গসহ হরেক রকমের মসলাগুড়ো।

মাছ কিংবা যে কোন মাংস রান্নায় ব্যবহৃত এসব মসলার কতটুকু উৎপাদন হয় রাজশাহীতে এবং রাজশাহীর এই মসলার বাজার কতটা আমদানি নির্ভর?

ক'দিন পরেই কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় চাহিদা বাড়ে হরেক রকম মসলার। তাই নগরীর সাহেব বাজার মসলাপট্টিতে পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানো এসব মসলার বেশিরভাগই আমদানি নির্ভর। যা বিক্রি হয় রাজশাহীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে।

আড়তদারদের একজন বলেন, 'দারচিনি-এলাচি-লবঙ্গ এইগুলা সবই বাহির থেকে আনতে হয়।'

বাজারের শুকনো ও কাঁচা দু'ধরনের মসলার বেশিরভাগই আমদানি করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

এর মধ্যে রাজশাহী পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনে সমৃদ্ধ হলেও এখানে আদা, জিরা, কাঁচা মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার উৎপাদন হয় খুবই সামান্য। তাই স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয় প্রায় ৯৫ শতাংশ মসলা।

এছাড়া ঈদ মৌসুমে প্রায় ৪৫ থেকে ৭০ কোটি টাকার মসলার বিকিকিনি হয় নগরীর প্রায় পঞ্চাশটি আড়তে। তবে ঈদ ঘিরে এখনো পুরোপুরি জমে উঠেনি মসলার বিকিকিনি। তবে এরইমধ্যে বাজারে বেড়েছে প্রায় সব মসলার দাম।

মসলার বাজারে দামের এই অস্থিরতার পেছনে আমদানিতে ডলারের বাড়তি দাম সহ নানা খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, 'পাইকারি বাজারে কিছুটা কম বেশি হয়েছে আমাদের কিনতে বেশি পড়ছে। যেমন এলাচের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬শ’ টাকা বেড়েছে।' 

এদিকে ঈদের আগেই মসলার ঊর্ধ্বমুখী দরে অস্বস্তিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। কমেছে ক্রয়ক্ষমতা।

মসলার ক্রেতাদের একজন বলেন, 'দারচিনি কিছুদিন আগে কিনেছি ৪শ’ টাকা কেজি আর এখন কিনতে হচ্ছে ৬শ’ টাকা কেজি দরে।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে গত তিন বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও হলুদের এবং উৎপাদন বেড়েছে ধনিয়ার। পাশাপাশি চাষাবাদ হচ্ছে আদা ও জিরার।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ জেলা। তাই প্রতিবছরই উদ্বৃত্ত ফলন থাকে। এছাড়া বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ ও জিরা চাষেও রয়েছে সম্ভাবনা।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর