বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'গত ১৭ জানুয়ারি কিউআর৬৪০ ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসার পর কাতার প্রবাসী মানিক খান বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ও গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিএস৩৬২ ফ্লাইটে জেদ্দা থেকে আগত প্রবাসী পাবনা জেলার বাসিন্দা আরিফ প্রমানিক বিমানবন্দরের দুই নম্বর ক্যানোপি এলাকায় অবস্থানকালে প্রায় একই কায়দায় সুকৌশলে কে বা কারা তাদের সাথে থাকা টাকাসহ ব্যাগগুলো হাতিয়ে নেয়।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, 'মানিক খানের ব্যাগে ছিল তিন হাজার ৭০০ রিয়ালসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর আরিফ প্রামাণিকের ব্যাগে ছিল চার হাজার ৭৩৫ রিয়াল। দু'জনই পরবর্তীতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অফিসে চুরির কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন।'
প্রথম ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া না গেলেও গত ৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পায় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
প্রেস রিলিজে জানানো হয়, 'সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা দুইজনকে শনাক্ত করতে পারে কিন্তু তাদের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। সিসিটিভিতে পাওয়া সামান্য তথ্য দিয়েই অভিযান শুরু হয়। চার দিন পর আজ শাহদুজ্জামান খোকন (৫৫) ও নিজাম উদ্দিন (৪৪) বিমানবন্দর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করলে তাদেরকে আটক করে বিমানবন্দর অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা উভয়ই অপরাধের কথা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কাছে স্বীকার করে।'
ভিকটিম যাত্রীদের সংবাদ দিলে তারা বিমানবন্দর এপিবিএন অফিসে হাজির হয়। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরস্থ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান অভিযুক্তদের ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
উল্লেখ্য, উভয় ব্যক্তির চুরি হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করে বিমানবন্দর এপিবিএন অফিস থেকে আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে টাকা ও মালামালসহ যাত্রীদের বুঝিয়ে দেয়া হয় বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রবাসী যাত্রী আরিফ প্রামাণিক বলেন, 'এইভাবে চার দিন পর ব্যাগ ও সকল মালামালসহ টাকা উদ্ধার অবিশ্বাস্য। সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে এভাবে অপরাধী শনাক্ত করায় ও আমাকে মালামাল বুঝিয়ে দেয়ায় আমি এপিবিএনকে ধন্যবাদ জানাই।'
অপরদিকে প্রবাসী মানিক খান আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, 'এই টাকা ও ব্যাগের আশা আমি পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম। একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে এতদিন পরে আমাকে ডেকে আমার চুরি করা মালামাল ফেরত দিবে এটা সত্যিই আমাকে বিমোহিত করেছে। প্রবাসী হিসেবে দেশের পুলিশ নিয়ে গর্ববোধ হচ্ছে।'
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) জনাব অনিতা রানী সূত্রধর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'অনেক প্রতারক ও পকেটমার যাত্রীবেশে ক্যানোপি এলাকায় অবস্থান করে। এ ধরনের প্রতারক ও পকেটমারসহ অন্যান্য যাত্রী হয়রানি দমনে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ কাজ করে আসছে। আমরা বিমানবন্দর ঘিরে সকল অপরাধ কার্যক্রম রোধে সচেষ্ট আছি।'