দেশে এখন

৮-১০ হাজার টাকায় জমি কেনাবেচা হলেও হয় না দলিল

মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে প্রতিবিঘা আবাদি জমি। সবচেয়ে ভালো জমি বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিঘা। আর বাড়ি করার উপযোগী জমি কেনাবেচা না হলেও পাওয়া যায় ভাড়ায়। তবে এখানে জমি কেনাবেচায় কোনো দলিল হয় না। স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে বদল হয় মালিকানা।

ছোট্ট একটা দ্বীপের বিনিময়ে প্রিয় নদীটি বদলে পাহাড় কিনতে চেয়েছিলেন স্বপ্নবাজ এক কবি। কবির সেই শখ পূরণের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল- সেই প্রশ্নটির আগে নজর দেই চরের চারণভূমিতে। দেখতে চাই চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে কীভাবে হাতবদল হয় চরাঞ্চলের খাস জমি। দখল সূত্রে হাতে হাতে ঘোরে রাষ্ট্রীয় ভূমির ভুয়া মালিকানা।

চরের অবস্থান নদীর যত কাছে মূল্য তত কম। আর নদী থেকে একটু দূরে হলেই বেড়ে যায় এখানকার জমির দাম। যমুনার তীর ধরে কিছুটা পথ এগিয়ে দেখা হলো সিরাজ আর আহমেদ আলী নামের চরের বাসিন্দার সাথে। জানালেন জমি কেনাবেচা হলেও রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল হয় না। অর্থের প্রয়োজন হলে স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে মালিকানা বদল করেন চরের বাসিন্দারা।

তারা বলেন, এখানে তো কোনো দলিল হয় না। ২০০ টাকার একটা স্ট্যাম্প কিনে স্বাক্ষর করে দেয়। এতেই মালিকানা বদল হয়ে যায়।

এখানে খুরের শব্দ তুলে ছুটে চলে ঘোড়ার গাড়ি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে তপ্ত বালি মাড়িয়ে চরবাসীর নিত্য চলাফেরা। আবাদি জমির দাম তো জানা হলো। এবার জানতে চাই এখানকার ভিটেমাটির দাম।

পথে পরিচয় মোখলেছার রহমানের সাথে। পরিপাটি দেখালেও বুকের ভেতরে কেবলই কষ্ট। ১৮ বার নির্দয় যমুনার ভাঙনে প্রায় কোমর ভাঙার দশা সর্বশান্ত ষাটোর্ধ্ব মানুষটির। চরবাটিয়ায় বাড়ি করার জমি কেনাবেচা হয় না, তাই ভাড়ার বিনিময়ে পাওয়া ২০ শতক জমিতে বাড়ি করেছেন। এখানকার প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষ জমি ভাড়া দিয়ে বাড়ি করে থাকেন জানালেন বলে জানান তিনি।

মোখলেছার বলেন, 'প্রায় ৭৫ শতাংশ লোকই অন্যের জমিতে বসবাস করে। কারণ অনেকেরই নিজস্ব জায়গা নেই। বিভিন্ন মেয়াদে মানুষ ভাড়া নেয়। প্রতি শতাংশ ২০০-২৫০ টাকা ভাড়া।'

নদী ভাঙনে বিলীন ও নতুন করে জেগে ওঠা চরভূমির নকশা ও রেকর্ড তৈরির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিয়ারা জরিপ করার নিয়ম থাকলেও অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না সেই জরিপ।

এদিকে আইন অনুযায়ী নদী বা সমুদ্রের যেকোনো অংশে পয়স্তি বা ভূমি গঠিত হলে তার মালিকানা সরকারের। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জমি বিক্রি বা ভাড়া দেয়ার অধিকার রাখেন না বলে জানান আইনজীবী মো. মোজাম্মেল হোক।

তিনি বলেন, 'একটা জমি যখন ভেঙে গিয়ে আবার জেগে ওঠবে তখন সেটা খাসে পরিণত হবে। কোনো ব্যক্তি এটি ভাড়া বা লিজ দিতে পারবে না।'

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'টিয়ারা জরিপ সম্পন্ন হলে আমরা চিহ্নিত করতে পারবো, যে কোনটা সরকারি জমি আর কোনটা বেসরকারি জমি। এটা হয়ে গেলে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে। নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আনার চেষ্টা করছি।'

বিভিন্ন সূত্র বলছে- দেশের মোট আয়তনের দশভাগই চরাঞ্চল। আয়তনে যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ লাখ একর।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর