দেশে এখন

বগুড়ার সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহের অনিয়মের অভিযোগ

ধান সংগ্রহ অভিযানে বগুড়ার সোনাতলায় যেন তুঘলকি কাণ্ড চলছে। সংগ্রহ তালিকায় থাকা নাম ঠিকানার কোন মিল নেই। তালিকায় প্রাপ্ত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় ভিন্ন নাম-পরিচয়। কার ধান কে দিচ্ছে সরকারি খাদ্য গুদামে, আর টাকা যাচ্ছে কার অ্যাকাউন্টে, জানে না কেউ। এমন অবস্থায় একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল কর্মকর্তাদের।

খাদ্যশস্য সংগ্রহের তালিকা বলছে, বগুড়ার সোনাতলা এলএসডিতে ৩ টন ধান দিয়ে টাকাও বুঝে পেয়েছেন বালুয়ার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম মোল্লা। কিন্তু আমিরুলকে ফোন করে যাকে পাওয়া গেল তার নাম রিয়াদ। ধান দেয়ার কথা শুনে হতভম্ব বগুড়ার একটি আবাসিক স্কুলে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত গাইবান্ধার সাঘাটার বাসিন্দা রিয়াদ।

রিয়াদ বলেন, 'যখন আমাকে প্রথম কল করা হয়েছিল তখন আমি বিষয়টা বুঝতে পারিনি। আমি আসলে আতঙ্কে ছিলাম বিষয়টা কি।আমি কোনো ধান দিতেও চায়নি আর ধান দেয়নি।'

কৌতুহল থেকে তালিকা ধরে সোনাতলার বালুয়া ইউনিয়নে এখন টিম। তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় নাম-ঠিকানার ব্যাপক অমিল।

নিয়ম থাকলেও সোনাতলা সরকারি খাদ্যগুদামের কোথাও দেখা যায়নি লটারিতে নির্বাচিত কৃষকের নামের তালিকা। এমনকি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও মেলেনি সেই তালিকা। এসব নিয়ে অন্ধকারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

বগুড়ার সোনাতলা বালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, 'যেহেতু ইউনিয়নভিত্তিক ধান নেয়া অবশ্যই খাদ্য অফিস থেকে আমাদেরকে জানানো উচিত ছিল।' 

নিয়ম অনুযায়ী কৃষকের অ্যাপে আবেদনের পর তালিকা যাচাই-বাছাই করে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করে ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা বুঝে নেবেন। কিন্তু কেন ব্যতিক্রম হলো সোনাতলায়- এমন প্রশ্নে একে অপরকে দোষারোপ করে দায় সাড়লেন উপজেলা কৃষি ও খাদ্য কর্মকর্তা।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হাজার হাজার আবেদনের মধ্যে থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমরা লটারি করেছি। এখানে কে ধান দিলো আর কে দিলো না এর দায় ফুড অফিসের।' 

সোনাতলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহ মো. শাহেদুর রহমান বলেন, 'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুমোদনের পর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লটারির পরে যে তালিকা পায় সেটা আমরা নিয়ে ধান সংগ্রহ করি।' 

একই প্রশ্ন ছিল প্রক্রিয়ার জন্য গঠিত খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তবে, ঠিকঠাক জবাব মেলেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমীন বলেন, 'এই বিষয়টা তদন্ত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এইটা একটা অভিযোগ এর বাহিরে আমি কিছু বলতে পারছি না।'

কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও কোন অদৃশ্য উইপোকার কারনে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষক। এমন প্রশ্নের উত্তর মেলেনা ইট-কাঠ-পাথরের ভবনে বসে থাকা কর্মকর্তাদের মুখ থেকে।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর