দেশে এখন

রাজশাহীতে জমজমাট ভাসমান পিঠা ব্যবসা

শীত ঘিরে রাজশাহীতে জমে উঠেছে পিঠার বেচাকেনা। রাস্তার পাশের দোকানে পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন অনেকেই। দিন দিন এসব দোকানের সংখ্যা বাড়ছে।

রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত ও বিভিন্ন অলি-গলিতে বসে ভাসমান পিঠার দোকান। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বা বসে স্বল্পমূল্যে নগরবাসী হরেক রকম পিঠার স্বাদ উপভোগ করেন।

নগরবাসীরা বলেন, 'বাসায় পিঠা তৈরি করা একটা সময়ের ব্যাপার। সেই সময়টা হয়ে ওঠে না। তাই এখানে আসি। পিঠা খুব সুস্বাদু খেতে ভালো লাগে। প্রতি পিচ চিতোই পিঠা ১০ টাকা।'

নগরের ফুটপাত বা পাড়ামহল্লার মোড় ছাড়াও এ আয়োজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে চোখেপড়ে। দুধস্বরে ভেজানো রস পিঠা, ভাপ ওঠা চিতোই আর নারিকেল ক্ষির জড়ানো পাটিসাপ্টা নিয়ে বাহারি স্বাদের পিঠার বাজার বসে।

একসঙ্গে বাহারী পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন নগরবাসী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. উদয় শংকর বিশ্বাস বলেন, 'শীত আসা মাত্রই বাঙালির মনে অন্যরকম একটা আমেজ তৈরি হয়। শৈশবে পিঠাপুলি খাওয়ার আমাদের একটা রঙিন অবস্থা ছিলো। পিঠা-পুলির সাথে আমাদের যে নানি, দাদি, মা-মাসির একটা সংযোগ ছিলো। তার মাত্রাটা এখন উপলব্ধি করতে পারি।'

প্রতিদিন দুপুরের পর প্রস্তুতি শেষে পিঠার বেচাকেনা চলে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। বিক্রেতাদের বেশিরভাগই নারী, যারা দিনের অর্ধেকটা সময় বাসা-বাড়িতে কাজ সেরে বাকি সময় আসেন পিঠা তৈরির কাজে। এটি তাদের বাড়তি আয়ের উৎস। প্রতিদিন একবেলায় ২ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত একেকটি দোকানে পিঠা বেচাকেনা হয়। এতে মাসে আয় দাঁড়ায় ৬০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত।

শহুরে জীবনে তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালি ঐতিহ্যকে এসব ভাসমান পিঠার দোকান খানিকটা বাঁচিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি স্বল্প পুঁজিতে এই ব্যবসার মধ্য দিয়ে নিম্ন আয়ের হাজারও মানুষ আয়-রোজগারের উপলক্ষ খুঁজে পেয়েছেন।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর