টাইফয়েডের টিকা কারা পাবে? (Who will get the typhoid vaccine in Bangladesh)
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখার নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতাভুক্ত করা হয়েছে:
- নির্ধারিত বয়স: নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শুধুমাত্র ১৫ মাস বয়সী শিশুরা এই টাইফয়েডের টিকা পাবে।
- টিকার ডোজ: শিশুদের জন্য এই টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিনের ১ ডোজ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অন্য টিকার সাথে সমন্বয়: একই সেশনে শিশুদের এমআর-২ (MR-2) টিকার সঙ্গে এই টাইফয়েডের টিকা একযোগে দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
কীভাবে মিলবে এই টিকা? (How to register and get typhoid vaccine)
ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের এই সেবা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নিবন্ধনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে:
- অ্যাপে নিবন্ধন: শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘ভ্যাক্স : ইপিআই’ (Vax EPI app) অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
- টিকা কার্ড ও ডেটা আপডেট: অ্যাপ থেকে ডিজিটাল টিকা কার্ড ডাউনলোড (Vaccine card download) করতে হবে এবং টিকা দেওয়ার পর ‘স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার’ (Smart Health BD / e-Tracker app) অ্যাপের মাধ্যমে শিশুর তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
- জন্মনিবন্ধন সহজীকরণ: শিশুদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন (Birth registration for vaccination) প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তুতি ও ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা (Directorate General of Health Services guidelines on TCV)
জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়মিত কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত সোমবার (১৩ জুলাই) এক নির্দেশনায় জানানো হয়। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সফল করতে সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- শনাক্তকরণ ও সচেতনতা: মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত (Child identification by health workers) করবেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে মাইকিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হবে।
- সংরক্ষণ তাপমাত্রা: টাইফয়েডের এই ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলকভাবে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে (Vaccine storage temperature 2 to 8 degrees Celsius)। নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং অপচয় কমাতে খোলা ভায়াল নীতিমালার শর্ত মেনে পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে।
দেশের শিশুদের টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্য অধিদফতর এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করছে। অভিভাবকদের নির্দিষ্ট সময়ে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুর টাইফয়েডের টিকা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI): টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
একনজরে: Typhoid Conjugate Vaccine Eligibility, EPI Registration & Implementation Guidelines
• দেশের সকল ১৫ মাস বয়সী শিশু এই টিকা পাবে.
• শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) দেওয়া হবে.
• একই সেশনে এমআর-২ (MR-2) টিকার সাথে একযোগে দেওয়া যাবে.
• ডিজিটাল অ্যাপে নিবন্ধনের পর টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে.
• টিকা প্রদানের পর তথ্য ডিজিটাল ট্র্যাকার সিস্টেমে আপডেট করা হবে.
• জন্মনিবন্ধন না থাকলে তা সহজীকরণে উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা হবে.
• নিয়মিত কর্মসূচিতে এই টিকার ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে.
• ভ্যাকসিনের অপচয় রোধে মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করা হবে.
• খোলা ভায়াল নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে.
শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হবে. মাঠপর্যায়ে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) নির্দেশনা জারি করেছে.
মূল বিষয়
(Core Topic)সরকারি নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী
(Official Rules)নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং অ্যাপ
(Registration App)শুরুর তারিখ ও ভেন্যু
(Start Date & Venue)
কারা পাবে ও ডোজ
ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপ
(Vax : EPI App)১ আগস্ট থেকে
ইপিআই-এর স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে
আবেদন ও কার্ড সংগ্রহ
স্মার্ট হেলথ্ বিডি / ই ট্র্যাকার
(Smart Health BD / e-Tracker)সরাসরি মাঠপর্যায়ে
বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু শনাক্তকরণ
ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা
২°C থেকে ৮°C
(সংরক্ষণ ও পরিবহন তাপমাত্রা)সারাদেশের সকল উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একযোগে চলবে.
সচেতনতা ও প্রচার কৌশল
আরও পড়ুন:




