আসছে ডিজিটাল আইডি, কী কী সুবিধা মিলবে

আসছে ডিজিটাল আইডি
আসছে ডিজিটাল আইডি | ছবি : সংগৃহীত
0

নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপ্লবের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এবার চালু হতে যাচ্ছে একক ডিজিটাল পরিচয় বা ডিজিটাল আইডি (Digital ID)। সম্প্রতি সরকারের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Digital Public Infrastructure - DPI) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের আর আলাদা আলাদা সনদের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে হয়রানি হতে হবে না (Unified Digital ID Bangladesh)।

শিশুর জন্মেই তৈরি হবে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি (Unified Digital ID for Newborn)

এই নতুন পরিকল্পনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এখন থেকে হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। এরপর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি (Unified Digital ID) তৈরি হয়ে যাবে। এমনকি যারা বাসায় জন্ম নেবে, তাদের জন্যও থাকবে বিশেষ ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা। এই একটি মাত্র আইডি কার্ডের মাধ্যমে একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল আইডি দিয়ে যেসব সরকারি সেবা মিলবে (Government Services via Digital ID)

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একাধিক ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে এনে সব সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে (All Government Services in One Platform) দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে যেসব সেবা সহজে পাওয়া যাবে:

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (Online Birth Registration)
  • স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (Smart National Identity Card - NID)
  • ই-পাসপোর্ট সেবা (e-Passport Service)
  • ডিজিটাল ভূমি সেবা ও খতিয়ান (Digital Land Services)
  • অনলাইন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তথ্য (Education and Health Data)
  • বিআরটিএ লাইসেন্স ও ফি (BRTIA Services)

আসছে স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট (Digital Wallet for Citizens)

ডিজিটাল আইডির পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট (Digital Wallet) তৈরি করা হবে। এই অ্যাপ বা ওয়ালেটে নাগরিকের ডিজিটাল আইডি, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল এবং সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে যেকোনো সরকারি সেবায় লগইন করা, তাৎক্ষণিক পরিচয় যাচাই (Identity Verification) এবং ফিজিক্যাল বা কাগজের পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে।

আরও পড়ুন:

সিঙ্গাপুর ও এস্তোনিয়ার মডেলে তথ্য সুরক্ষা (Data Privacy and Security)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (Concept Paper) পর্যায়ে রয়েছে। মূলত এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের সফল ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল (Unified Identity Model) পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (D-STAR) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চলছে।

সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (Data Privacy Law) ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। নাগরিকের স্পষ্ট সম্মতি (Consent) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না।

আসছে ডিজিটাল আইডি: একনজরে মূল সুবিধা ও সেবাসমূহ

Unified Digital ID Features & Benefits at a Glance

সুবিধার ক্ষেত্র
(Service Categories)
পাবলিক ডিপিআই-এর আওতাভুক্ত সেবাসমূহ
(Expected Benefits & Features)

একক পরিচয় কাঠামো
(Unified Identity)

‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি’ ধারণায় সব সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। বারবার আলাদা তথ্য দিতে হবে না।

স্বয়ংক্রিয় জন্ম নিবন্ধন
(Automated Birth ID)

হাসপাতালে শিশু জন্মের পর বাবা-মায়ের এনআইডির সাথে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে।

জন্ম থেকে মৃত্যুর সেবা
(Life-cycle Services)

এক আইডি দিয়েই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ই-পাসপোর্ট ও ভূমিসেবাসহ সব সরকারি ডাটাবেজ এক সূত্রে মিলবে।

স্মার্ট ডিজিটাল ওয়ালেট
(Smart Digital Wallet)

স্মার্টফোনভিত্তিক ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল শংসাপত্র ও নথি সুরক্ষিত থাকবে, যা ফিজিক্যাল বা কাগজের আইডির বিকল্প হবে।

নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা
(Data Privacy)

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী নাগরিকের স্পষ্ট সম্মতি (Consent) ছাড়া কোনো তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করা হবে না।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড
(Global Standard Model)

বিশ্বব্যাংক সমর্থিত 'ডি-স্টার' প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গাপুর ও এস্তোনিয়ার উন্নত ডিজিটাল আইডি মডেলের আদলে এটি তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এসআর