আজ (শনিবার, ২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত উন্নয়ন ভাবনা সামনে রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে বলেছিলেন, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। সে পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে।’
বাজেটের আকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় আকারের বাজেট অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন বাজেট অনেক বড়। কিন্তু সংসদ সদস্যরা যদি সড়ক, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য যে দাবি করেছেন, সব একসঙ্গে যোগ করা হয়, তাহলে বাজেট অন্তত ৩০ লাখ কোটি টাকা হওয়া উচিত ছিল।’
বাজেট ঘাটতির বিষয়টিকেও স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক বাজেট আয়ের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু রাষ্ট্রের বাজেটে উন্নয়নের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করে পরে সেই অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয়।
গয়েশ্বর বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘শুধু দুর্নীতি করব না বললেই হবে না। আমাদের দরকার শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে পারলে বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতির কারণে সরকার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রশংসা করে গয়েশ্বর বলেন, পরিবারভিত্তিক সহায়তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বরাদ্দ অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছালে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, ‘এই অর্থ যখন নারী ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে যাবে, তখন তা বাজারে ঘুরবে। অর্থ যত বেশি মানুষের হাতে ঘুরবে, অর্থনীতি তত বেশি শক্তিশালী হবে।’
এ সময় তিনি কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) উচ্চ সুদের সমালোচনা করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হয়, যা ব্যাংক খাতের সুদের তুলনায় অনেক বেশি।
স্বল্পমূল্যের বিড়ির ওপর কর পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরাই এসব বিড়ির প্রধান ভোক্তা।
রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ঢাকার বাইরে পরিকল্পিতভাবে ঢাকা জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর গড়ে তোলা উচিত।
এ লক্ষ্যে জেলা সদর, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
মাদক পাচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, মাদক নির্মূলে আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; আইন কার্যকরে সাহস, সততা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে মাদক বন্ধ করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সাহস, সততা এবং আইন প্রয়োগের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’
বক্তব্যের শেষদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করা সম্ভব হবে।—বাসস




