এক মাস পর চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র | ছবি: এখন টিভি
0

প্রায় এক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি আবার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩২ মিনিটে তৃতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, ‘এই ইউনিট চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লোডশেডিং কমে আসবে বলে আশা করছি।’

বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটও চালু রয়েছে। তবে সেখান থেকে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে দু’টি ইউনিট মিলিয়ে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

কয়েক দফা বন্ধ হওয়ার পর পুনরায় উৎপাদনে

তৃতীয় ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদনের বাইরে ছিল। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার শেষে গত ২০ মে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেলে ২৫ মে আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।

পরবর্তী এক মাস ধরে সংস্কার কাজ চালানোর পর মঙ্গলবার রাতে ইউনিটটি আবার চালু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় ইউনিট এখনও বন্ধ

কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। সেটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সংস্কার কাজ চলছে, যদিও কবে উৎপাদনে ফিরবে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন এখনো অধরা

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দু’টি ইউনিট চালু ছিল। পরে ২০১৭ সালে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট।

তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত তিনটি ইউনিট একযোগে চালিয়ে পূর্ণ ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারেনি। সবশেষ তৃতীয় ইউনিট চালু হলেও দ্বিতীয় ইউনিট এখনও বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি তার পূর্ণ সক্ষমতার অনেক নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

এসএস