একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা আবুল কালাম। যার দিন শুরু হয় ভোর থেকে শরীরচর্চার মধ্যদিয়ে। দৌড়ানো, সাঁতারসহ শরীরচর্চার ফাঁকে প্রায়ই চোখ বোলাচ্ছেন হাতে থাকা ঘড়িতে। এ স্মার্টওয়াচেই জেনে নিচ্ছেন দেহঘড়ির বর্তমান অবস্থা।
আবুল কালাম বলেন, ‘ব্লাড প্রেসার, আমার হার্টের রেট কত? বিশেষ করে আমি যখন দৌড়োই তখন আমার হার্টের রেটটা মানে বাড়ছে কত দূর পর্যন্ত যাচ্ছে এবং আমি যখন নরমাল হচ্ছি, তখনও আমার হার্টের রেটটা কত—এটা আমি ইজিলি পরিমাপ করতে পারি।’
সকালে রমনা পার্কে আসা অনেকেই ব্যবহার করেন এমন স্মার্টওয়াচ। একই ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য নানা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে বলে জানান ব্যবহারকারীরা।
ব্যবহারকারী একজন বলেন, ‘আগে যেমন আমরা বাইরে ঢোকার আগে প্রেসার মাপতে হইতো রেগুলার, তো এইটা এখন আর করা লাগে না। এখন এইটা দেখলেই আমি মোর অর লেস বডির সাথে আমি ইয়া বুঝতে পারি যে আমার বডির কি সিচুয়েশন চলছে।’
আরও পড়ুন
বর্তমান বাজারে থাকা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এসব স্মার্ট ওয়াচে হেলথ ট্র্যাকার সিস্টেম থেকে জানা যাচ্ছে— দৌড়ের গতি, সময়, এমনকি ক্যালোরির পরিমাণ। এর পাশাপাশি রিডিং দিচ্ছে হার্টবিট, রক্তচাপ, এমনকি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণও। এসব প্রযুক্তির উপর কতটুকু নির্ভর করা যায়, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
বিশ্বব্যাপী বাড়ছে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার। বাংলাদেশেও তরুণদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনরা নির্ভরশীল হচ্ছেন এসব ডিভাইসের ওপর। ঘুমের বিশ্লেষণ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন শনাক্ত করা, রক্তে অক্সিজেন মাত্রা যাচাইসহ অনেক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এসব ঘড়িতে।
বিএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. চয়ন সিংহ বলেন, ‘স্মার্ট ওয়াচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই সুন্দর একটা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় এসব স্মার্টওয়াচ শতভাগ আস্থাশীল নয়। তাই হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক ফলাফলে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জোর দিলেন এই চিকিৎসক।
ডা. চয়ন সিংহ বলেন, ‘এইটা একটা প্রাইমারি একটা ভালো ধারণা দেয়। এইটা একটা দিক। দুই নম্বর হচ্ছে যে ব্লাড প্রেসার মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের যে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম আছে, সেটার সঙ্গে কম্পারিজন দেখা গেছে যে এইটা মোটামুটিভাবে একটা ভালো ইনফরমেশন দেয়। কিন্তু অবশ্যই যদি আমাদের খুব অ্যাবনরমাল রিপোর্ট আসে—যেমন খুব লো অথবা খুব হাই— সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই যে ভ্যালিডেটেড যে টুলগুলো আছে, সেটা দিয়ে কনফার্ম করবো।’
এআই প্রযুক্তিতে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েক বছর পরে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কেমন হবে সামনে সেই ধারণাও দিতে যাচ্ছে স্মার্টওয়াচ।





