কোরবানির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কথা বলছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
কথা বলছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী | ছবি : এখন টিভি
0

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথ স্থানে ফেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ কিংবা দুর্গন্ধ সৃষ্টি না করতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

আজ (মঙ্গলবার, ২৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একদিন পরেই আমাদের কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা কমবেশি অনেকেই কোরবানি দেব। কোরবানির পশুর বর্জ্য যেন আমরা যথাস্থানে ফেলি। রাস্তাঘাটে যেন দুর্গন্ধ বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। নিজ নিজ এলাকায়ও এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ৪ হাজার ৭৩৭টি হতদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নগরের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়াম এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটি পরিবার ঈদ উদযাপনের জন্য মাংস ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার হিসেবে পেয়েছে। এতে চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, মসলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের কোথাও এভাবে এত বিপুল সংখ্যক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণের খবর আমি শুনিনি। এটি একটি নজিরবিহীন উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে ঢাকা ও ময়মনসিংহে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে আমরা দেখেছি ঢাকার রাস্তা ডুবে যেত, ময়মনসিংহ শহরের অনেক এলাকাও পানিতে তলিয়ে যেত। এখন আশার কথা হচ্ছে, প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে না। এটি সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফল।’

বক্তব্যে তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা কিছু সামাজিক নিরাপত্তামূলক পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

তিনি জানান, গত ১৬ মে নান্দাইল উপজেলার একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুরো ময়মনসিংহ জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘অচিরেই ময়মনসিংহের সব উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হবে। ঈদের পর থেকেই আমরা কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। সিটি করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজীম উদ্দিন, প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা সীতেষ চন্দ্র সরকার এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস প্রমুখ।

এফএস