ঢাকা এক জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরের নাম, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারেরও বেশি নাগরিক বসবাস করে এ নগরে। অপরাধ,খুন, সামাজিক অস্থিরতায় মাঝেমধ্যে অশান্ত হয়ে উঠে নগর। কোনো কোনো সময় যানজট, অনিয়ম, আইন ভাঙ্গার মিছিলে গতি হারায় বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে উঠা সমতল এ ভূমি।
নগরবাসী বলছেন, এ করুণ দশা এক দিনে হয়নি। তাই নগরের ওপর থেকে ভার কমানোর তাগিদ তাদের।
নগরবাসীদের একজন বলেন, ‘পল্টন হোক বা যাত্রাবাড়ী যে কোনো এলাকায়, যখন একটা সাধারণ ক্রাইম হয়, সেই তুলনায় কিন্তু পুলিশ হুট করে আসে না।’
অন্যআরেক জন ব্যক্তি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল আরও একটু বাড়ানো উচিত আগে থেকে।’
আরও পড়ুন:
যদিও আইন ভঙ্গের প্রবণতা এবং সেই তুলনায় জনবল কম হওয়ায় ইদানিং পুলিশের পক্ষে পুরনো পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, নিরাপত্তা প্রদান, সামাজিক সহবস্থানকে সন্তোষজনক অবস্থায় আনতে প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের কর্মকর্তাদের একজন বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে এ অ্যাপসগুলো যখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। নগরবাসীও সেবার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাবে।’
ডিএমপির রমনা জোনের উপ- কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘অনেক জায়গায় এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে এ অ্যাপের কার্যকারিতার সফলতা পাওয়া শুরু হয়েছে।
এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে ঢাকার ২৫টি মোড়ে উন্নত মানের ট্রাফিক সিগন্যাল,ক্যামেরা স্থাপন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মনিটর করা হচ্ছে।
একইভাবে আবাসিক হোটেলগুলো থেকে অতিথি তালিকা সংগ্রহ, অপরাধীর যাতায়াত, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ,হুমকি চিহ্নিত ও পর্যবেক্ষণ সহজতর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু করেছে পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার জানান- পুলিশকে একটি আধুনিক বাহিনী গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, হ্যালো ডিএমপিসহ ৯টি অ্যাপ এবং সফটওয়্যার চালু হয়েছে। এসবের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে বলে আশা করেন তিনি।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ সরওয়ার বলেন, ‘ডিএমপির যেসব ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়েছে—প্রায় ২৩টি ক্রসিং অলরেডি লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ৭টি ক্রসিংয়ে লাগিয়ে দিয়েছে, আরও ৬টি ক্রসিংয়ে লাগানো হচ্ছে। উন্নত মানের পিটিজেড সিসি ক্যামেরা ইন্সটল করে খুব অচিরেই আরও ৭০০ সিসি ক্যামেরা বসানো হবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য। অচিরেই হয়তো অনুমোদন হবে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ঢাকা মহানগরকে পুরো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’
অপরাধ দমনে সামনের দিনে পুলিশ আরও কঠোর হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।




