২০২৭ সালে ২৪ লাখ শরণার্থীর পুনর্বাসন প্রয়োজন: জাতিসংঘ

শরণার্থীর পুনর্বাসন কেন্দ্র
শরণার্থীর পুনর্বাসন কেন্দ্র | ছবি: সংগৃহীত
0

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে বিশ্বের প্রায় ২৪ লাখ শরণার্থীর পুনর্বাসন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এল যখন অনেক দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার কোটা বা সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে যে, যেসব শরণার্থী নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না এবং বর্তমান আশ্রয়স্থলেও ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য বিকল্প সুযোগের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইউএনএইচসিআর-এর টেকসই সমাধান ও মাঠ পর্যায়ের সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যাকি কিগান বলেন, ‘পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো এখন জরুরি এবং এটি অর্জন করা সম্ভব। কোটা বৃদ্ধি করা, আরও নতুন দেশকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং আবেদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করার মাধ্যমে আমরা আরও বেশি অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবো।’

সংস্থাটির বার্ষিক ‘প্রজেক্টেড গ্লোবাল রিসেটেলমেন্ট নিডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩টি দেশের উৎস থেকে আসা এবং বর্তমানে ৭৬টি দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অন্য কোথাও পুনর্বাসন প্রয়োজন। পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকা সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হলো আফগানরা। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে বিশাল শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।

জ্যাকি কিগান জানান, গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ শতাংশ কমেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি আফগানদের ইরান ও পাকিস্তান থেকে ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে’ দেশে ফেরা এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ তৈরি হওয়াকে উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালে ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তায় মাত্র ৩৭ হাজার শরণার্থী নতুন দেশে পুনর্বাসিত হতে পেরেছেন, যা ২০২৪ সালের ১ লাখ ১৬ হাজারের তুলনায় অনেক কম। পুনর্বাসনের এই বড় পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের শীর্ষ পুনর্বাসনকারী দেশ হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর শরণার্থীদের জন্য দেশটির দরজা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেন। কিগান বলেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরও অনেক দেশই তাদের কোটা কমিয়ে দিয়েছে বা স্থগিত করেছে। এই সংকট নিরসনে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এএম