গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে চালকদের অপেক্ষা। ফুয়েল পাশ, রেশনিং পদ্ধতি কিংবা সরবরাহ বৃদ্ধি- কোনো কৌশলেই কমাতে পারেনি প্রায় দুই মাস ধরে চলা ভোগান্তি।
আজ (বুধবার, ২২ এপ্রিল) সকাল থেকেই বন্ধ রাজধানীর বেশিরভাগ পাম্প। কয়েকটি পাম্প খোলা থাকলেও তাতে আছে ফুয়েল পাশের চেকিং। যা ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে অভিযোগ অনেকের।
পাম্পের কর্মচারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখানে যে দীর্ঘ লাইন, এটা হলো আমরা ফুয়েল পাশের মাধ্যমে দিচ্ছি। যাদের ফুয়েল পাশ নেই তাদেরকে আমরা সরবরাহ দিচ্ছি না।’
আরও পড়ুন:
গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফুয়েল পাশ দিয়ে কোনো সংকটই কাটতেছে না। ফুয়েল পাশের আরও লিমিট আমাদের ৬০ লিটারেরটা এখন আসছে ২৫ লিটারে।’
অন্য একজন বলেন, ‘ফুয়েল পাশ ছাড়াও আমি তেল নিতে পেরেছিলাম এক হাজার টাকার, অথচ এখন ফুয়েল পাশ দিয়ে আমাকে এক হাজার টাকার তেল দেবে। এখন সরকার দাম বাড়িয়েছে এটাতে আমার ক্ষোভ নাই, কিন্তু আমার ভোগান্তি তো কমেনি।’
এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় রাজধানীতে কমেছে গণপরিবহন। বাসভাড়া সমন্বয়ের আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের।
আরও পড়ুন:
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘চাকরি শেষ করে বা কর্ম শেষ করে ঠিকমতো আমরা গাড়িঘোড়া পাইতেছি না।’
বাসচালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যানবাহন তো অবশ্যই কমছে। অর্ধেক গাড়ি তো কমেই গেছে। কেউ তেল পাচ্ছে, কেউ তেল পাচ্ছে না।’
বেশিরভাগ বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে খোলা থাকা পাম্পগুলোতে। সরবরাহ নিশ্চিত করলে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি দাবি পাম্প কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন:
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, ‘ঢাকা শহরে যদি অর্ধেক পাম্প বন্ধ থাকে, তো বাকি অর্ধেক পাম্পের প্রেসার কই আসবে? যারা চালু আছে তাদের ওপর আসবে। তো ওই ৫০টা পাম্পের যে চাপ, সে তুলনায় ২৫ পার্সেন্ট কিছু না।’
তিনি বলেন, ‘এই যে পাম্পগুলো বন্ধ আছে সেগুলোকেও একটু রান করার ব্যবস্থা করতে হবে, আমাদের পাশাপাশি ওই পাম্পগুলোকেও বরাদ্দ বাড়াতে হবে যাতে ওরাও রান করতে পারে। তখন এই লাইনটা কমে আসবে, মানুষের মনে একটা স্বস্তি ফিরবে।’
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়ছে চালকদের রুটিরুজিতে। আয় কমায় দৈনন্দিন খরচ নিয়ে বিপাকে তারা।





