তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনি এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না।’
মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিরোধীদলের নেতা ড. শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবিকে ‘কগনিজেন্সে’ নেয়ার জন্য ট্রেজারি বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক বা কঠোর অবস্থানের বিষয়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ‘ছোটদের আবদারে সব সময় ‘‘না’’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে তিনি আরও খুশি হতেন।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘এমন বড় কোনো ইতিবাচক খবরের আশায় তিনি মিষ্টি খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছুটা হোঁচট খেয়েছেন।’
আরও পড়ুন:
এসময় সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।
এর আগে, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মরিচাকান্দা এলাকায় নির্বাচনি উঠান বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, ‘সরকারে যেতে পারলে এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা বাতিল করা হবে। এ নিয়ম থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেব না। আমার পরিবারের কাউকে এ সুযোগ নিতে দেব না। আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা দুর্নীতি। সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। আমার যেহেতু সম্পদ কম, আমি দুর্নীতি করলে সহজে ধরা যাবে।’





