রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আবদুল্লাহর দীর্ঘ অপেক্ষা যাত্রীর জন্য। তার এই রাইড শেয়ারের আয় থেকেই চলে সংসার, সন্তানের পড়ালেখা। তবে প্রায় দেড় মাসের জ্বালানি সংকটে রাইড শেয়ার করে আগের মতো আয় হচ্ছে না- সেই আক্ষেপ তার কণ্ঠে।
রাইড শেয়ারিং চালক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আগে যখন তেল সংকট ছিলো না। আমরা যেকোনো পাম্প থেকে যে কোনো সময় তেল নিতে পেরেছি। আমাদের ইনকাম তখন ভালো হতো। এখন একদিন গাড়ি চালাই আর একদিন চলে যায় তেল নিতে ‘
নগরজুড়ে তার মতো অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় যাত্রীর জন্য। কিছুদিন আগেও নগরীর অলিগলিতে প্রায়ই দেখা মিলতো বাইক চালকদের। তবে সম্প্রতি অনেকটাই বদলেছে সেই চিত্র। নগরীতে তেমন দেখা মেলে না পেশাদার বাইকারদের।
তাদের অভিযোগ, তেল সংগ্রহ করতেই দিনের অর্ধেকের বেশি সময় চলে যায় পাম্পে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জ্বালানি পেলেও তা চাহিদার অর্ধেক। এতে রাইড শেয়ারিংয়ের থেকে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে সংগ্রহ করতেই।
আরও পড়ুন:
রাইড শেয়ারিং চালকদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘আমি এখানে ভোর ৫টা থেকে অপেক্ষা করছি। এখনো তেল পাইনি। দেখা যায় সকাল ৭টায় লাইনে দাঁড়ালে বিকেল ৫টায় তেল পাওয়া যায়।’
এমন দুর্ভোগের মধ্যেই আবার বেড়েছে জ্বালানির দাম। যার প্রভাব পড়েছে চালকদের আয়েও। তবে বাড়তি ভাড়া দিতে নারাজ গ্রাহকরা। অনেকেই খরচ বাঁচাতে বেছে নিচ্ছেন গণপরিবহন। অন্যদিকে, চালকরাও চাহিদামতো মেলাতে পারছে না যাত্রী। ফলে দৈনিক ট্রিপ কমেছে প্রায় অর্ধেক।
চালকরা জানান, এখন তারা যাত্রী পাচ্ছেন না। এমন চলতে থাকলে এ পেশায় থাকতে পারবেন না তারা।
কোভিডের পর অনেকেই চাকরি বা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বেছে নেন এই পেশা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকে বিকল্প নিয়ে পেশা ভাবতে হচ্ছে। এমনকি আয় কমায় পরিবার-স্বজন নিয়ে অনটনে দিন যাপন করছেন বলেও অভিযোগ জানান তারা।
চালকরা অভিযোগ করে জানান, এভাবে চলতে থাকলে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন কেউ কেউ।
এদিকে, জ্বালানির দাম বাড়ালেও এবার সঙ্কট দূর করতে সরকারকে ভূমিকা রাখার তাগিদ চালকদের।





