অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে বেশ কিছু শর্তে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। অপেক্ষমাণ বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, শর্তে ঐক্যমত্য না হলে ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে কোনো অবস্থাতেই জনগণের স্বার্থবিরোধী কিছু করা হবে না।
আওয়ামী সরকারের সময়ে আর্থিক সংকট সামাল দিতে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সঙ্গে ঋণ আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশ। কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৩ সালের শুরুতে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুনে এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করে।
আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ ছাড়ের বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। এ আলোচনা শেষ হয়নি। ওদের ডিমান্ড আছে, আমাদের চাওয়াও আছে। এটা মিউচুয়াল ব্যাপার। আমরা তো নির্বাচিত সরকার। জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ পরবে এমন সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারবো না। আইএমএফ সঙ্গে আলোচনা চলছে। আরও ১৫ থেকে ২০ দিন, একমাসও আলোচনা হতে পারে আইএমএফের সঙ্গে।’
এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এখনও বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তিসহ অবশিষ্ট অর্থ ছাড় হওয়ার কথা ছিলো গত বছরের ডিসেম্বরে। তবে আইএমএফ জানিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে। এদিকে ব্যাংকিং খাত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আইএমএফের শর্ত নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আলোচনা হয় ঋণ ছাড়ের বিষয়ে। তবে কবে ঋণ ছাড় হবে তা স্পষ্ট হয়নি এখনও।
আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আইএমএফের সঙ্গে বেশ কিছু শর্তে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। তবর ঐক্যমত্যে না পৌঁছালে ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিবে। সরকার জনগণের স্বার্থ বিরোধী কিছু করবে না বলে সাফ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়া তেলের দাম বাড়িয়েছে। আমরা জনগণের কথা চিন্তা করে এতদিন দাম বাড়ায়নি। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী।





