সাইবার হামলা এখন শুধু বড় ব্যাংক বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এখন হ্যাকারদের বড় টার্গেট। কারণ বহু ছোট প্রতিষ্ঠানেই নেই পর্যাপ্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে একবার হামলার শিকার হলে হারাতে হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, টাকা কিংবা গ্রাহকের আস্থা।
বর্তমানে দোকান, রেস্তোরা, অনলাইন ব্যবসা, ছোট অফিস,সবখানেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ফেসবুক পেজ, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট, ক্লাউড স্টোরেজ, সবকিছুই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। আর এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা।
সাইবার বিশেষজ্ঞ আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, ‘আপনি হয়তো পাঁচজন, ১০ জন দিয়ে শুরু করছেন, বা আপনার একটা প্রতিষ্ঠান আপনি দাঁড় করালেন, হঠাৎ করে আপনার একটা সাইবার অ্যাটাক হলো। তাহলে কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ ব্যবসাটা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’
শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, সাইবার স্পেসে এখন ব্যক্তিগত তথ্যও হুমকির মুখে। তাই যে কোনো মুহূর্তে ব্যক্তিগত মুঠোফোনও বড় আতঙ্কের কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সাইবার স্পেসে নিরাপত্তার জন্য সচেতন থাকা যেমন জরুরি তেমনি নিতে হবে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা। তাহলেই রক্ষা পেতে পারে অনলাইন জগতের অন্ধকারের হাতছানি।
গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা এখন ব্যাংকিং ফোন দিয়ে করছি, আমরা ডেফিনেটলি আমাদের ডেইলি কমিউনিকেশন করছি, আমাদের হেলথ রিলেটেড ইস্যুও আমরা আস্তে আস্তে কিন্তু ফোনের মাধ্যমে করছি। আমাদের আইডেন্টিটিতে যদি কেউ এক্সেস করার চেষ্টা করে, যদি এরকম কোনো একটা সলিউশন থাকে যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সাবস্ক্রাইবারদেরকে হেল্প করতে পারি টু রিয়ালি প্রটেক্ট দেমসেলভস। তো ‘জিপি শিল্ড’ সেরকমই একটা প্রোডাক্ট।’
ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য দিতে হবে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড, টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, নিয়মিত ডাটা ব্যাকআপ, আন্টিভাইরাস ও সফটওয়্যার আপডেট ও ওয়েব সাইটের দুর্বলতা দূর করা এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাইবার সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এছাড়াও সাইবার নিরাপত্তায় এখনই সতর্ক না হলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অংকুরেই বড় লোকসানের মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সাইবার বিশেষজ্ঞ আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, ‘ইনভেস্ট করতে হবে সাইবার নিরাপত্তার জন্য এবং আপনার যে এমপ্লয়ই আছে, তাদেরকে অ্যাওয়ারনেস, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এই দুইটা জিনিস যদি আপনি একসাথে করতে পারেন, আপনি অনেকটা রিস্ক ফ্রি থাকবেন। এবং সাইবার যে অ্যাটাকগুলো হয়, নিয়মিত যে অ্যাটাকগুলো হচ্ছে, আমার প্রতিষ্ঠানে ফিউচারেও আসতে পারে কিনা, এগুলো নিয়েও আপনাকে কাজ করতে হবে।’
সাইবার নিরাপত্তার জন্য সবসময় বড় বাজেট দরকার হয় না। সঠিক নিয়ম মেনে চললে ও সচেতন থাকলেই অনেক বড় সুরক্ষা দিতে পারে প্রতিষ্ঠানকে এমনটা মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।




