দেশে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ, দুশ্চিন্তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীরা

লোডশেডিংয়ে বন্ধ কারখানা ও কৃষিকাজ
লোডশেডিংয়ে বন্ধ কারখানা ও কৃষিকাজ | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের বিভিন্ন জেলায় অসহনীয় পর্যায়ে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে জনজীবনে বাড়ছে দুর্ভোগ। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীরা।

কাঠফাটা রোদে তীব্র গরম। পুড়ছে শহর-গ্রামের প্রতিটি প্রান্তর। গরমের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরকেন্দ্রিক সহনীয় থাকলেও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে প্রান্ত শ্রেণির মানুষকে। বন্ধ থাকছে কলকারখানা, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

সৈয়দপুর

তীব্র লোডশেডিংয়ে উত্তরবঙ্গে হালকা ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে। নির্ধারিত সময়ে গ্রাহককে পণ্য বুঝিয়ে দিতে পারছেন না কারিগররা। বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। বিদ্যুৎ চালিত বাহন চার্জ করতে খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ। এতে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ।

এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কাজের জন্য নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সমস্যার কারণে কাজের সমস্যা হচ্ছে। সময়মতো প্রোডাক্ট ডেলিভারি করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:

খুলনা

খুলনা বিভাগে হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিং। শহরে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা এবং ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে খুলনার গ্রামাঞ্চল। এতে পানি সংকটে পড়েছে মাঝের ঘের। সেচ বঞ্চিত হচ্ছে বোরো ফসলের কৃষক।

কৃষকরা জানান, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে। কাজগুলোর উৎসই হচ্ছে বিদ্যুৎ।

চুয়াডাঙ্গা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গা। সূর্যের প্রখরতায় শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট-ফসলের খেত। সপ্তাহজুড়ে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে লোডশেডিং। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন জেলা সদর ও দামুড়হুদা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলের খেত।

কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ থাকে না। মাঠে ধান শুকিয়ে যায়।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে জেলাবাসীর। এতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে উঠছে নাভিশ্বাস। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় মাছের হ্যাচারির অ্যারোটার মেশিন বন্ধ থাকায় কমেছে মাছের উৎপাদন। পাশাপাশি সেচ সঙ্কটে পড়েছেন বোরো চাষিরা। পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধানের খেত।

জ্বালানি তেল দিয়ে চালানো মেশিন আর চালানো যাচ্ছে না। পানি দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা।

বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় দিনের চেয়ে রাতে বাড়ে লোডশেডিং। তীব্র গরমে জনজীবনে নামে দুর্ভোগ। প্রচণ্ড গরমে বিপাকে পড়ছেন কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষ। লোডশেডিংয়ের পরিমাণ না কমলে ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়েও বাড়ছে শঙ্কা।

ইএ