মৌলভীবাজারে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন

কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ
কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ | ছবি: এখন টিভি
1

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা ব্লকে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলট কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ উপলক্ষে দুপুরে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

এদিন টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা সোয়া ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি স্থানীয় ১৫ জন কৃষক–কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে জুড়ীতে নির্বাচিত ১৫ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

আরও পড়ুন:

প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রি-পাইলট কার্যক্রমের আওতায় জুড়ীর ফুলতলা ব্লকে মোট ৮২১ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৮১৯ জনের ব্যাংক হিসাব এর মধ্যে খোলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে ৬৫০ জন পুরুষ এবং ১৭১ জন মহিলা, এদের মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যাই বেশি।

‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্যসহ আধুনিক কৃষি সেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কৃষকদের পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকার আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে।

অনুষ্ঠানে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানীর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, শিগগিরই তা চালু করা হবে, এতে করে কৃষকদের উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।’

আরও পড়ুন:

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিদেশে আহত বা নিহত হয়েছে তাদেরকে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যারা অবৈধভাবে লোকজনদের বিদেশে পাঠিয়ে বিপদের মুখে ফেলেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যেন অবৈধভাবে বিদেশ না যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন— জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, প্রধান অতিথি আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম,মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

কৃষি বিভাগ জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি নির্বাচনি অঙ্গীকার হলো এদেশের প্রতিটি কৃষক ও কৃষানীকে অর্থাৎ প্রায় ১.৫ কোটির বেশি কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা। নির্বাচনের কালির দাগ শেষ না হতেই আজ সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

‘কৃষক কার্ড থাকলে হাতে সেবা পাবেন সাথে সাথে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষক কার্ড প্রদানের সি-পাইলিং কাজের হিসেবে ছিল আজকের এই আয়োজন। সারা দেশে মোট ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কৃষক কার্ড প্রদানের সি-পাইলট কাজ যার মাধ্যমে ২২ হাজার ১৩৬ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা ব্লকে ৮৫৯ জন নির্বাচিত হয়। এই ৮৫৯ জনের মধ্যে ৮২৯ জনকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। দু’জন কৃষক অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে তাদের অ্যাকাউন্ট করা হয়নি।

এসএস