দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিলো। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে; এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই সব জল্পনার অবসান হয়েছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার এবং সর্বকনিষ্ঠ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায় জন্ম নেয়া শিরীন শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং আইন পেশায় যুক্ত হন। সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। রংপুর-৬ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সেদিন সংসদ ভবন থেকে পরিবারসহ অজ্ঞাত স্থানে সরে যান বলে জানা যায়। পরে সেপ্টেম্বরে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এরপর তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। কেউ বলছিলেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন, আবার কেউ দাবি করেন তিনি দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি, সংসদ ভবনে গোপন কক্ষে আশ্রয়ের পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে—এমন খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও তিনি আলোচনায় ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতেই সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ অধিবেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অবশেষে ২০ মাস পর তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হলো, পুরো সময় তিনি দেশেই অবস্থান করছিলেন। জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।





