আজ (বুধবার, ৯ জুন) বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হাদি আলোদিদ নামের ওই সুদানি নাগরিককে হাজির করা হয়। প্রসিকিউটররা জানান, গত সোমবার রাতের ওই হামলায় স্টিফেন ওগিলভি নামের এক ব্যক্তির বাম চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছে। আলোদিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, এক রেডিওগ্রাফারকে হত্যার হুমকি দেয়া এবং অবৈধভাবে ছুরি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি আরবি দোভাষীর মাধ্যমে আইনি সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের দোষ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি।
সোমবারের ওই হামলার পর বেলফাস্টে ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু হয়। অভিবাসীরা থাকেন এমন সন্দেহে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয় মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা। এছাড়া তারা ময়লার স্তূপে আগুন দেয়া, বাস পোড়ানো এবং পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটায়। জ্বলন্ত বাড়িগুলো থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খুঁজছে না।
হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় চরম আতঙ্কে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কঙ্গো থেকে আসা বেলফাস্টের বাসিন্দা আনসেলম শিমা বলেন, 'আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এই রাস্তায় আছি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো, কিন্তু গত রাতের ঘটনা ছিল একেবারেই ভয়ংকর।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা বুঝতে পারছি না কী করব। আমি খুব ভয়ে আছি, এসব দেখে ভাবছি এরপর হয়তো আমার পালা।'
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতা এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই দাঙ্গার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'গত রাতে বেলফাস্টের দৃশ্য ছিল মর্মান্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।' তিনি আরও বলেন, 'মানুষকে তাদের পরিচয়ের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।' নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও সিন ফেইন দলের নেতা মিশেল ওনিল একে 'চরম গুন্ডামি' আখ্যা দিয়ে বলেন, 'মুখোশধারী লোকেরা পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে পুড়িয়ে বের করে দিচ্ছে, যা এক চরম কাপুরুষতা।'
পুলিশের চিফ কনস্টেবল জন বাউচার দাঙ্গাকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'যারা এই সহিংসতায় জড়িত ছিল, আমরা তাদের ঠিকই খুঁজে বের করব এবং গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনব।' নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী নাওমি লং অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিদাতারা স্থানীয়দের ভয়কে 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করছে। ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসন এবং এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও এই বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আলোদিদ ২০২৩ সালে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড থেকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং তাকে পাঁচ বছরের জন্য থাকার অনুমতি দেয়া হয়। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন অনেক রাজনীতিক।
এই সীমান্ত ইস্যুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ অবাধ যাতায়াতই ছিল সেই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি, যার মাধ্যমে 'দ্য ট্রাবলস' নামে পরিচিত কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল। এদিকে বেলফাস্টের এই ঘটনার রেশ ধরে গত মঙ্গলবার স্কটল্যান্ডের বেশ কয়েকটি শহর এবং ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।





