হংকং অগ্নিকাণ্ড: ১৬৮ জনের মৃত্যুতে ২৫টি মামলা, ফেঁসে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসন প্রকল্পের অগ্নিকাণ্ড সময় এক বয়স্কের কান্না
ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসন প্রকল্পের অগ্নিকাণ্ড সময় এক বয়স্কের কান্না | ছবি: সংগৃহীত
0

গত নভেম্বরে হংকংয়ের ওয়াং ফুক আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠান ও সাতজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, বিচারে বাধা দান এবং কর ফাঁকিসহ মোট ২৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শহরটিতে গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের তালিকায় প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, মূল ঠিকাদার এবং সংস্কার কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এর মধ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত পরিদর্শকও রয়েছেন। তবে কৌশলগত কারণে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নাম এখনো প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

গত বছর অগ্নিকাণ্ডের পরপরই হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘উইল পাওয়ার আর্কিটেক্টস’ নামক প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’কে ওই সংস্কার কাজের নিবন্ধিত ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ঘটনাটি তদন্তে গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে বেশ কিছু মারাত্মক ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সংস্কার কাজের সময় আবাসন প্রকল্পের আটটি ব্লকের মধ্যে সাতটিরই ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নিনির্বাপণ সতর্ক সংকেত বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া ভবনের জানালাগুলো দাহ্য ফোম বোর্ড দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছিল। কমিটির প্রধান আইনজীবী ভিক্টর ডাউস এক শুনানিতে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের দিন জীবন রক্ষার সব সুরক্ষা ব্যবস্থা মূলত মানুষের অবহেলার কারণেই অকেজো ছিল।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণ শ্রমিকরা জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরো যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।

এই ঘটনায় গত মার্চ মাস পর্যন্ত পুলিশ নরহত্যা ও জালিয়াতির অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। দুর্নীতি দমন সংস্থা আলাদাভাবে পরামর্শক, ঠিকাদার ও মালিক সমিতির সদস্যসহ ২৩ জনকে আটক করে। তবে তাদের মধ্যে কতজন বর্তমানে জামিনে আছেন বা কতজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্র্যাজেডি পরবর্তী জনরোষ সামাল দিতে হংকং ও বেইজিং কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর হংকংয়ের বেইজিংপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা শাখা স্থানীয় কলামিস্ট ওং কোক-এনগনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ‘উস্কানিমূলক’ লেখা লিখে জনমনে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

এএম