প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে গ্রামের পথে ছুটছে নগরবাসী। পথে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে ঠিকই, তবে আগের মতো রেলস্টেশনে উপচেপড়া ভিড় নেই। সব ট্রেন সময়মতো ছাড়ায় রয়েছে স্বস্তি।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখনো তেমন ভিড় নেই। আরামেই যেতে পারবো। আগের ট্রেনগুলো ঠিক সময়েই গেছে। আশা করি এবার ট্রেন লেট করবে না। সময়মতোই ছাড়বে।’
প্রথমদিনের ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কমলাপুর রেলওয়েস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রেলপথ মন্ত্রী বলছেন, সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট যাত্রীরা।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকলেও সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন এবং রেলসহ অন্যান্য পরিবহনে যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘৩ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করা হয় এবং যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট কিনেছেন। এসময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচণ্ড চাপ দেখা যায়। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘রেলের যে সেবার মান যাত্রীরা এখন দেখছেন, তা আমরা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চাই। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী রেল যোগাযোগকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করতে নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।’
তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলে অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২৪টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। মিটারগেজে আরও প্রায় ১৪টি কোচ এবং ব্রডগেজ লাইনে প্রায় পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে যাতায়াতের চেষ্টা করেন উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এ প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে বিপুল যাত্রীর চাপে কখনো কখনো দুই-একজন ছাদে উঠে যেতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কেউ ছাদে উঠতে না পারে।’
এর আগে আজ (শুক্রবার, ১৩ মার্চ) সকাল ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস। এর মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় ট্রেনে ঈদযাত্রা, যা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।





