ব্রিটেনের পার্লামেন্টে বর্তমানে প্রতিনিধিত্ব করছেন চার ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী এমপি, আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অসংখ্য নারী কাউন্সিলর, চিকিৎসক, ব্যারিস্টার, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, এমনকি ব্যবসায়ীও। যুক্তরাজ্যের মাটিতে ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারীদের এমন সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে কেন নেই নারীরা?
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স কিংবা গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট —দশকের পর দশক ধরে কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে নারী নেতৃত্ব নেই বললেই চলে।
যুগ যুগ ধরে কেন এমনটা হচ্ছে? এটা কি কেবল কাকতালীয় নাকি সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ বাংলাদেশি কমিউনিটি?
লন্ডন রেডব্রিজ কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর সাইমা আহমেদ বলেন, ‘নারীদের অংশগ্রহণ কেবল টোকেনিজম বা সিম্বলিক অর্থে নয়, একটা যথাযথ ও সমমর্যাদা দিয়ে তাদের যে যোগ্যতা আছে, সেটা তো আমরা প্রমাণ করছি সবক্ষেত্রে। সেই যোগ্যতাটুকু কেন কমিউনিটি অর্গানাইজেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে না?’
আরও পড়ুন:
সমাজ বদলেছে, বদলেছে নারীর অবস্থানও। ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারীরা বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছেন, নীতি নির্ধারণ করছেন স্থানীয় সরকারেও। বড় বড় প্রতিষ্ঠানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাহলে কমিউনিটির সংগঠনগুলোতে নারী নেতৃত্বের প্রতিফলন নেই কেন? এটা কি কেবলই সুযোগের অভাব নাকি প্রচলিত নেতৃত্বের সংস্কৃতিই সবচেয়ে বড় বাধা?
ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন সব সময় ওয়েলকাম করে যে, আমাদের নারীরা যাতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সামনে এগিয়ে আসে।’
ইউকের ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স মুসলেহ আহমেদ বলেন, ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আমরা নির্দিষ্টভাবে তাদেরকে স্বাগত জানাই বোর্ডে আসার জন্য। আমরা এটাতে কাজ করবো। তারা যেভাবে আমাদের ডিরেক্টর বোর্ডে আসতে পারেন, নারীদের এই চ্যাপ্টার আমরা শুরু করবো।’
অনেকেই বলছেন, যে কমিউনিটিতে নারীরা জাতীয় রাজনীতি, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন, সেই কমিউনিটির সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বেও তাদের উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি। নেতৃত্বের টেবিলে কারা বসছেন, তার ওপরই বাংলাদেশি কমিউনিটি তথা ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারীদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে বলেও মত অনেকের।
যুক্তরাজ্যের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, ‘আমাদের নারীরা যদি ইনভলভ থাকে বিজনেসে, তাহলে তাদের পরিবারও দ্রুত এগিয়ে আসবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃত্বে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।





