ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় মশার আতঙ্ক; বাড়তি নজরদারির তাগিদ

কয়েল, মশার লার্ভা ও খাল
কয়েল, মশার লার্ভা ও খাল | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদ ঘিরে কিছুদিন পরই ঢাকা ছাড়তে শুরু করবে নগরবাসী। আর এই সময়েই বাসাবাড়ি এবং রাস্তায় জমে থাকা পানি আর আবর্জনা হয়ে উঠবে মশার অভয়ারণ্য, যা ছুটি শেষে ফেরা নগরবাসীর জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সিটি করপোরেশনের বাড়তি নজরদারি আর ফেরার পর প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র সমাধান, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সকাল থেকে রাত, দোকানে দোকানে বিরামহীন জ্বলছে মশার কয়েল তবু মশার কামড় থেকে নিস্তার নেই। বাসা কিংবা বাইরে সবখানেই যেন মশার রাজত্ব।

এই চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটির জুরাইন এলাকার। যত্রতত্র ময়লা, নর্দমায় জমে থাকা পচা পানি, রাস্তা এবং খালের সংস্কার চলমান থাকায় এ এলাকায় মশার উপদ্রব মৌসুমের আগেই বেড়েছে কয়েকগুণ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝাঁকে ঝাঁকে মশা বাড়লেও নিধনে নেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

বাসিন্দারা জানান, রাতে মশা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন দিনেও মশা বাড়ছে। মশার উপদ্রবের কারণে তারা অতিষ্ঠ, দোকানদারদের ঠিকমতো কাজ করতেও হচ্ছে সমস্যা।

ঢাকা উত্তরের দশাও একই রকম। আফতাবনগর, হাতিরঝিল, দক্ষিণখান, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেকারণে সেখানে পৌঁছায় না মশার ওষুধ। ফলে এসব এলাকায় মশা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বাসিন্দারা জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। মশার কারণে তারা এলাকাবাসী ভোগান্তিতে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

মশা নিয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসীর ওপর ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় মশা বাড়ার আতঙ্ক। ঈদের ছুটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ থাকবে তাই এলাকাগুলো মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হবে হবে শঙ্কায় আছেন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন:

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন। ১ সপ্তাহের মতো বন্ধ থাকবে তাদের কাজ।

ঢাকায় এখন মশার প্রায় ৯২ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে- যা চলতি মার্চ মাসে আরও বাড়বে বলে শঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তাই পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘বিগত ৫ বছরে আমরা মশার এতো ঘনত্ব পাইনি। এটি নিয়ন্ত্রণ করার একটিই পদ্ধতি মশার লার্ভার মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে।’

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় এবার মশক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই ১০টি অঞ্চলে চালু রাখছে ইমার্জেন্সি টিম এবং সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগে এলাকাজুড়ে থাকবে মনিটরিং টিম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা কর্মচারী সবার ছুটি থাকে না। সিটি করপোরেশনের কাজ প্রতিদিনের কাজ। ডে নাইটের কাজ। আমরা এখন মশার ওষুধ বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সচিব, চিপসহ সবাইকে একেকটি টিমের হেড করে দেয়া হয়েছে। তারা ওই অঞ্চলে পরীক্ষা করবেন। যেখানে প্রয়োজন সেখানে মোবাইল কোর্ট বসবে। নাগরিকদের সুযোগ সুবিধার জন্য যতটুকু করার দরকার সিটি করপোরেশন করবে।’

তবে সিটি করপোরেশন বলছে মশকমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ তখনই নিশ্চিত হবে যখন জনসচেতনতা বাড়বে।


এফএস