অদক্ষ শ্রমিকের সুযোগে বাড়তি অর্থ আদায়; ব্যয় কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

অদক্ষ শ্রমিকের সুযোগে বাড়তি অর্থ আদায়
অদক্ষ শ্রমিকের সুযোগে বাড়তি অর্থ আদায় | ছবি: এখন টিভি
0

একসময় বিনা খরচের ভিসার জন্যেও এখন গুনতে হয় চার থেকে ছয় লাখ টাকা। অদক্ষ শ্রমিকের কারণেই বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ নিচ্ছে সিন্ডিকেট ও দালালচক্র। সিন্ডিকেট ভাঙতে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিবাসন ব্যয় কমাতে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একসময় ভিসা ও বিমান ভাড়াসহ দক্ষ শ্রমিক নিয়োগে যাবতীয় অর্থায়ন করতো। দালাল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভিসার সহজ প্রাপ্তি কারণে অদক্ষ শ্রমিকরাও এ খরচ বহন করে বিদেশ যাত্রা শুরু করে। এ সুযোগে শ্রমবাজারে ঢুকে পড়ে সিন্ডিকেট প্রথা ও দালাল চক্র। কিছু নির্ধারিত শ্রমবাজার পুরোপুরি চলে গেছে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সবশেষ মালয়েশিয়ার দেয়া ১০ শর্তও সিন্ডিকেটের কারণেই।

ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, ‘সিন্ডিকেটটা ওই সব জায়গায় হয়, যেখানে লোক বেশি যায়। মধ্যপ্রাচ্যে অনকটাই বন্ধ হয়ে গেছে শ্রমবাজার। তাই সরকারের উচিত এ সিন্ডিকেটগুলো ভাঙা।’

আরও পড়ুন:

কেন অভিবাসন খাতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য? রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাকে দুষছেন কেউ কেউ। চিহ্নিতদের দৃশ্যমান শাস্তির নিশ্চিতের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও কাজে লাগানোর আহ্বান অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের। পাশাপাশি সরাসরি সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তির পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিন্ডিকেট সব সময় গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী আর সরকার এক হয়ে। সরকার যদি রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে পৃষ্ঠপোশকতা না করে তারা দুর্বল হয়ে পরবে।’

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিবাসন ব্যয় কমাতে যেকোনো পদক্ষেপ নেবে সরকার। শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে জি টু জি চুক্তির বিষয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘এখন আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে জনগণ পর্যায়ে কাজ করা যায়। বিশেষ করে অভিবাসন ব্যয় কীভাবে কমানো যায় এবং শ্রমবাজার ধরে রাখতে অনেক দেশের সঙ্গে জি টু জি চুক্তি করার কথা হচ্ছে।’

অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হলে বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় এনে বাতিল করতে হবে নিবন্ধন।

জেআর