ফেব্রুয়ারি মাসের ভূমিকম্পের পরিসংখ্যান (Earthquake Statistics)
চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে কম্পন অনুভূত হচ্ছে:
- ১ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প।
- ৩ ফেব্রুয়ারি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার কম্পন এবং একই দিনে মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের প্রভাব।
- ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে আরও দুটি কম্পন।
- ১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি: মিয়ানমারে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি: ভারতের সিকিমে ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব।
- ২৭ ফেব্রুয়ারি: সাতক্ষীরায় ৫.৪ মাত্রার সর্বশেষ মাঝারি কম্পন।
কেন বারবার কাঁপছে দেশ? (Why is the Earth Shaking Frequently?)
ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ২৬ দিনে দেশে অনুভূত ১০টি ভূমিকম্পের তালিকা
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পের তালিকা
তারিখ উৎপত্তিস্থল (Epicenter) মাত্রা (Richter Scale) মন্তব্য ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট ৩.০ মৃদু কম্পন ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা (কলারোয়া) ও মিয়ানমার ৪.১, ৫.৯ ও ৫.২ একই দিনে একাধিকবার কম্পন ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট - দুটি আলাদা কম্পন অনুভূত ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ (ছাতক) ৪.১ মাঝারি মৃদু কম্পন ২৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার ৫.১ রাতে অনুভূত হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি সিকিম, ভারত ৩.৭ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুভূত ২৭ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা (আশাশুনি) ৫.৪ মাঝারি মাত্রা, ঢাকা-চট্টগ্রামেও অনুভূত
আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় ৫.৪ মাত্রার মাঝারি কম্পন
সর্বশেষ গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের (Meteorological Department) আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরায় সৃষ্ট এই কম্পন রাজধানী ঢাকা হয়ে পূর্বে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনুভূত হয়।
বিপজ্জনক অবস্থানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম (Risky Cities)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dhaka University) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের (Tectonic Plates) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন (Vulnerable Buildings):
ঢাকা: রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ। জাইকার (JICA) জরিপমতে, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় অন্তত ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম: সিডিএ-র তথ্যমতে, নগরীর ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবনের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ মতামত সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প হওয়া কি বড় দুর্যোগের সংকেত? (Is 8 earthquakes in 26 days a sign of disaster?)
উত্তর: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ঘন ঘন কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ (Early Warning) হতে পারে। এটি নির্দেশ করে যে ভূ-অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ কেন ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত? (Why is Bangladesh earthquake prone?)
উত্তর: বাংলাদেশ মূলত ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের (Indian and Eurasian Plates) সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণেই এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।
প্রশ্ন: বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার ঝুঁকি কতটা? (How much is the earthquake risk in Dhaka?)
উত্তর: ঢাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং অনেক ভবন বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি হয়নি। ফলে বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
প্রশ্ন: ভূমিকম্প কি আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব? (Can earthquakes be predicted?)
উত্তর: না, এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানে ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান আগে থেকে জানার কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ছোট কম্পন দেখে ঝুঁকি আঁচ করা যায়।
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে থাকলে কী করণীয়? (What to do during an earthquake indoors?)
উত্তর: 'ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড অন' (Drop, Cover and Hold on) পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং কাঁচের জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে।
প্রশ্ন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন বলতে কী বোঝায়? (What is an earthquake-resistant building?)
উত্তর: যেসব ভবন জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুসরণ করে এমনভাবে তৈরি করা হয় যা নির্দিষ্ট মাত্রার কম্পনেও ধসে পড়বে না, সেগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন বলে।
প্রশ্ন: পাহাড় বা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কেমন? (Earthquake risk in hilly or coastal areas?)
উত্তর: পাহাড়ী অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সমুদ্র উপকূলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সুনামির (Tsunami) আশঙ্কা তৈরি হয়।





