তিনি বলেন, ‘কর্নেল গুলজার যখন হেডকোয়ার্টারকে বারবার ফোন করে বলছিলেন, স্যার কিছু একটা করেন, আমাদের উদ্ধার করেন, আমাদের জীবন বাঁচান—কেউ তাদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি। তৎকালীন সেনাপ্রধান-প্রধানমন্ত্রী এর দায় কীভাবে অস্বীকার করবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায় কীভাবে অস্বীকার করবেন? এরা সবাই দোষী। এরা কেউ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন না, দাবিও করতে পারবেন না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘তখন সেনাবাহিনী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছিল। দুইটা তদন্তের কোন রিপোর্টই জনগণ জানতে পারলো না এবং সেটা আলোর মুখ দেখলো না। যদি তদন্তের রিপোর্ট জাতির সামনে আসতো, তাহলে হয়তো অনেক সত্য পরিষ্কার হয়ে যেত। নিশ্চয়ই তখন যারা ক্ষমতাসীন ছিলেন, এর সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ছিল এই হত্যাকাণ্ডের সাথে। যার কারণে তারা চাননি যে এই রিপোর্টগুলো প্রকাশ পাক।’
আরও পড়ুন:
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘খুনের নেপথ্যের কারিগর যারা ছিল, পরিকল্পনাকারী ছিল, ষড়যন্ত্রকারী ছিল, যারা তাদের উৎসাহ যুগিয়েছে এবং যারা এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে—আমরা মনে করি তারা সকলেই সমানভাবে দোষী। যদি বর্তমান সরকার বিচারের আওতায় আনতে পারে তাহলে এই জাতির কিছু দায়মুক্তি হবে, দায়মোচন হবে। যদি না পারে তাহলে এটা সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে পরিগণিত হবে। আমরা আশা করি সরকার তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।’
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এত সেনা অফিসার মারা যাননি উল্লেখ করে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘দুইটা বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে, একদিনে কোথাও এত সেনা অফিসারকে খুন করা হয়নি। এর আগে এই ধরনের আর কোন উদাহরণ নাই। এতগুলো মানুষ আমাদের বুক থেকে কেড়ে নেয়া হলো। মূলত এই দেশকে সামরিক শক্তির দিক থেকে কোমর ভেঙে দেওয়ার এটি ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জানি না এর (পিলখানা ট্রাজেডি) বিচার হবে কি না। আমাদের প্রত্যাশা ছিল এই দেশ সেবার সুযোগ আমরা পেলে কোন আপস করবো না, এ ব্যাপারে আমরা ঠিক বিচার করব। আমরা ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি চালু করতে চাই, তবে প্রতিহিংসার কোন রাজনীতি আমরা চালু করতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসা আর ন্যায়বিচার ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। প্রতি-হিংসাপরায়ণ হয়ে বিচারের নামে যা করা হয় তা ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড হয় অথবা শাস্তি দেওয়া হয়। আমরা ওটা চাই না। আমরা চাই ন্যায় বিচারটাই নিশ্চিত হোক। কেউ নির্দোষ হলে নির্দোষ হয়ে যাবে বিচারের মাধ্যমে, আর যারা সত্যিকারের দোষী তারা যেন তাদের পাওনাটা পায়, তাদের শাস্তিটা পায়।’





