জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় গত এক মাস ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা থাকার পরও বাড়তি দাম দিয়ে মিলছে না সিলিন্ডার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা।
এদিকে, মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ বাদশা মিয়া। স্থানীয় গাজীপুর বাজারে তার একটি ছোট খাবারের দোকান। গ্যাসেই চলে দোকানের সব কাজ। প্রতি মাসে চারটি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। এখন প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি খরচের কারণে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না—ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।
খাবার দোকানদার মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘যে হারে গ্যাসের দাম বাড়ছে, এতে করে প্রতিদিন লোকশান গুনতে হচ্ছে। আর সরকারের কাছে আবেদন, গ্যাসের দামটা যেন একটু সহনীয় পর্যায়ে রাখে।’
আরও পড়ুন:
বাদশা মিয়ার মতো মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এলপিজি সংকটে রয়েছেন। দোকানে দোকানে ঘুরেও মিলছে না সিলিন্ডার। দ্রুত এ সংকট নিরসনের দাবি তাদের।
সাধারণ মানুষরা জানান, দাম বাড়ার সঙ্গে কিন্তু আমাদের বেতন বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে গ্যাস পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি।
এদিকে ডিলাররা বলছেন, গত এক মাস ধরে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে তৈরি হয়েছে এ কৃত্রিম সংকট।
স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাস সংকট যেন তারাতারি সমাধান হোক।
জেলা প্রশাসনের বাণিজ্যিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, এলপিজি সংকটের বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন। অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
জামালপুর জেলা প্রশাসন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার বিএমএসআর আলিফ বলেন, ‘অভিযান ও নজরদারি চলমান রয়েছে। এরপাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও অভিযান চলমান রয়েছে।’
জেলায় প্রতি মাসে গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার। বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। দ্রুত সংকট কাটবে—এমন আশাই করছেন জামালপুরবাসী।




