বহুদিন পর বাংলাদেশ এমন একটি নির্বাচন দেখলো যেখানে সহিংসতার খবর নেই, ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ নেই, আর আতঙ্ক নয় বরং উৎসব ছিল ভোটারদের চোখে মুখে।
এবারের নির্বাচনে বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটায় প্রশ্ন উঠছে এটি কি কেবল প্রশাসনিক সাফল্য, নাকি এর ভেতরে রয়েছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা বলেন, ‘সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে যারা নিয়োজিত ছিলেন তারা প্রত্যেকে ভালো দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটা সফলতা এসেছে। জুলাই বিপ্লবের সফলতা বলা যাবে এটাকে। জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটেই আজকের এ আয়োজন। তার একটা প্রভাব তো বড় দলগুলোর ওপর অবশ্যই পড়েছে। পুরনো রীতির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া যাবে না। তাদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা তারও একটা প্রতিফলন তাদের বক্তব্যে ঘটছে।’
আরও পড়ুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘একইধরনের একটা পরিবর্তন ঘটছে৷ আমি মনে করি এটা আশাবাদী পরিবর্তন। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা একটা ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছি, নির্বাচন দেখতে পেয়েছি। আমার পর্যবেক্ষণ বলছে আমরা ভালোর দিকেই ধাবিত হচ্ছি।’
বিশ্লেষকরা বলছেন নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়। জবাবদিহি, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন। আর এবারের নির্বাচন ও গণভোট সেই পথের প্রথম ধাপ।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যে সংবিধানের সংস্কার বিষয় রয়েছে যেই জুলাই এজেন্ডার মধ্য দিয়ে যে বিষয়গুলো ছিলো এগুলাকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
অধ্যাপক ড. শামীম রেজা বলেন, ‘একটা জনগণের সম্মতি পাওয়া গেছে। সে সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে তারা যখন সংসদ তৈরি হবে আরও আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো গ্রহণ করবে। তো নি:সন্দেহে এ সম্মতির মূল্য রয়েছে। একটা ইতিবাচক নতুন বাংলাদেশের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের একটি সূচনা মাত্র। এই স্বপ্ন বাস্তব হবে কিনা, তা নির্ভর করবে ভোটের পরের রাজনীতি, শাসন ও জবাবদিহির ওপর।





