Recent event

প্রধান উপদেষ্টার কাছে নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা
নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা | ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
0

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতা সমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আজ (বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়াও এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি, নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ৮টি মানদণ্ডের সাপেক্ষে ৮টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।

বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য— এ দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

কমিটি এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে; মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং অডিট ড্রিভেন ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা মডেল (two-layer transparency model)’ কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা একটি বৈশ্বিক মান সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন:

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতা— এ সবকিছুর আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করাই ছিল এ প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।

এ কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এরই মধ্যে এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভূক্ত করেছে। এছাড়াও এ কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে।

এ প্রতিবেদন তৈরির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পর সম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেয়া হয়েছে।

এসএইচ