বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার যে যুক্তি দেয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। বরং এ সিদ্ধান্ত ভোটের অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দেবে।
আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। আধুনিক সাংবাদিকতায় মোবাইল ফোন ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং অনিয়ম নথিভুক্ত করা কার্যত অসম্ভব।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারো মোবাইল বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের কার্যত অচল করে দেয়ার শামিল।
আরও পড়ুন:
আরএফইডি মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধান স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে। সাংবাদিকদের মোবাইল বহনে বাধা দেওয়া মানে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে অস্বচ্ছ করে তোলা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও মাঠ পর্যায়ের প্রয়োগ পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরএফইডি নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়ে বলে, অবিলম্বে নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মোবাইল বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের বিধিনিষেধকে স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে আরএফইডি সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।





