Recent event

জামায়াতের ইশতেহার: অর্থনীতি ও নারী ক্ষমতায়নে সংশয় বিশ্লেষকদের

জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা
জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা | ছবি: সংগৃহীত
0

জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে মানবিক বাংলাদেশ ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরা হলেও নেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্পষ্ট বার্তা। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আরও ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় এ ইশতেহার বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে জানান তারা।

নির্বাচন এলেই ইশতেহার ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে এক চেনা ও পুরনো রীতি। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং ক্ষমতায় গেলে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে, তারই একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারের মাধ্যমে প্রকাশ করে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণার এ ধারা প্রচলিত। তবে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পুরনো কাঠামোর বাইরে গিয়ে দলগুলো কতটা নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আর বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি হাজির করতে পারছে? সেদিকেই এখন দেশের মানুষের দৃষ্টি।

গত বুধবার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আট ভাগে ৪১টি ভিশনের সমন্বয়ে নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ নামে ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

যাতে অগ্রাধিকার পেয়েছে জুলাই বিপ্লব, স্বনির্ভর কৃষি, যুবকদের কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা, টেকসই অর্থনীতি ও প্রবীণদের জন্য ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা, ফ্রি শিক্ষাসহ সবার জন্য অর্ন্তভুক্তিমূলক রাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীদের জন্য কিভাবে কাজ করবে জামায়াত সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা দেয়ার প্রয়োজন ছিলো। মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়ে অনেক নারী সন্তুষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘স্পেশালি নারীদের নিয়ে কী চিন্তা ভাবনা এ জায়গা স্পষ্ট করা দরকার। ইশতেহারে দেখলাম অংশগ্রহণমূলকভাবে তাদের আনা হবে এটি খুব হালকাভাবে লেখা। সন্ধ্যাকালীন বাস যদি মেয়েদের জন্য চালু করে সত্যিই তাহলে মেয়েরা অনেক খুশি হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, একটি ইসলামিক দল হিসেবে জামায়াত কিন্তু নারীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান যথেষ্ট পরিবর্তন করেছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।’

অবকাঠামো উন্নয়ন করার চেয়ে আগামী সরকারকে জোর দিতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে বলে মত দেন রাষ্ট্র চিন্তকেরা। বিরোধীদলের ক্ষমতায়নের বিষয়টি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরী মনে করেন তারা।

অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে পারবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী দলকে একটি শ্যাডো বা ক্ষমতাসীন দলের রেপ্লিকা হিসেবে তাদের ভাবা হয়। উৎপাদনের বৃদ্ধিকে ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে হবে।’

ড. জিন্নাত আরা নাজনীন আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের উন্নয়ন করতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। সে বিষয় নিয়ে এমন বড় কিছু কথা নেই এখানে।’

অতীতের মত ইশতেহারকে কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দেয়া গেলেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, বলে মত বিশ্লেষকদের।

এফএস