ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা

ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ যাত্রা
ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ যাত্রা | ছবি: এখন টিভি
0

গেল বছর অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশিরা। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করে নিখোঁজের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। দু’দশকে কেবল নরসিংদী থেকে বিদেশে গেছেন প্রায় চার লাখ ৪০ হাজার কর্মী। নিবন্ধন করে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান বিএমইটি’র কাছে থাকলেও অবৈধ পথে যাওয়া অভিবাসীদের তথ্য নেই কারো কাছে।

ঢাকার বাইরের জেলা নরসিংদীর মানুষের প্রধান পেশা বস্ত্রশিল্প। কৃষিতেও জড়িয়ে আছেন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ। তবে পেশা পরিবর্তন করে এ অঞ্চলের মানুষও ছুটছেন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নানা দেশে।

গত ২১ বছরে এ জেলা থেকে বিদেশে গেছেন প্রায় চার লাখ ৪০ হাজার কর্মী। নিবন্ধন করে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান বিএমইটির কাছে থাকলেও অবৈধ পথে, ভারত বা তৃতীয় দেশ ঘুরে যাওয়া অভিবাসীদের তথ্য নেই কারো কাছে। যদিও অবৈধ পন্থা বেছে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ানো ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয় এ অঞ্চলে। নিখোঁজ বা যাত্রা পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে কারো কারো সঙ্গে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা বলছেন, সরাসরি ভিসা না পাওয়ায় অনেকেই অবৈধ পথে দালাল ধরে ইউরোপ পাড়ি দেন। দালালচক্র বিদেশে থাকায় প্রতারিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয় না।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের মধ্যে একজন বলেন, ‘লিবিয়ার মেইন যে মাফিয়া, যে দালাল, ওই লোক বলছে, আমি সাগরে গেম দিয়ে দিছি। এখন লোক কোথায় আছে আমি ভলতে পারি না।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা তো বিশ্বাস করি এখনো বেঁচে আছে। যেহেতু কোনো মৃত্যুর খবর পাইনি এখনো। ডিরেক্ট তো ইউরোপের কোনো ভিসা পাওয়া যায় না, সেজন্য এভাবে দিছিলাম।’

আরও পড়ুন:

তবে নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান অফিস জানায়, অন্তত ২৫৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন তারা। ১৯৬টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপের জন্য বিএমইটিতে পাঠানো হয়েছে ৫৫টি। আর বাকি পাঁচটি তদন্তাধীন। এসব মামলায় রিক্রুটিং এজেন্সির সম্পৃক্ততা আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম দাউদুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে দালালদের একটা তালিকা আছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। সে মামলার ফলোআপ আমরা করছি। এখানে রিক্রুটিং এজেন্সি যদি সম্পৃক্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা আমরা করবো।’

অভিবাসন সম্পৃক্ত সংস্থার তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৪৭৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসী সমুদ্রপথে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। যা এর আগের বছরের দিগুণ। গত বছর লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গ্রিক দ্বীপ ক্রিট ও গাভদোসে যান ১৯ হাজার ৯৪৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশী। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৯০ জন সাগরে ডুবে মারা যান।

ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স এর তথ্য বলছে, গেল বছর অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশিরা।

এসএস