একনজরে তিন দশকের সব জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল

বাংলাদেশের গত ৩৫ বছরের জাতীয় নির্বাচন
বাংলাদেশের গত ৩৫ বছরের জাতীয় নির্বাচন | ছবি: এখন টিভি
0

১৯৯০ সালে সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে (Bangladesh Election History Last 35 Years) এসেছে নানা নাটকীয় পরিবর্তন। গত ৩৫ বছরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (National Parliament Elections) প্রেক্ষাপট ও ফল একনজরে দেখে নিন:

একনজরে বিগত নির্বাচনসমূহের জয়ী দল

নির্বাচনের বছরজয়ী দল/জোটপ্রধানমন্ত্রী
১৯৯১বিএনপিখালেদা জিয়া
১৯৯৬আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা
২০০১বিএনপি জোটখালেদা জিয়া
২০০৮আওয়ামী লীগ জোটশেখ হাসিনা
২০১৪আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা
২০১৮আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা
২০২৪আওয়ামী লীগশেখ হাসিনা (৫ আগস্ট পদত্যাগ)

আরও পড়ুন:

১. ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: এরশাদ পরবর্তী গণতন্ত্রের নতুন পথচলা (1991 Bangladesh General Election History)

দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (5th National Parliament Election)। সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের (H.M. Ershad) পতনের পর এটিই ছিল প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যেখানে দেশের সকল রাজনৈতিক দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ঐতিহাসিক ভোট (Election Under Interim Govt)

বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) অধীনে এই নির্বাচনটি আয়োজিত হয়। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে এটি আজও আলোচিত। এই নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানে সমান লড়াই করে।

বিএনপির জয় ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (Victory of BNP and First Female PM)

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) এককভাবে ১৪২টি আসন লাভ করে এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)। অন্যদিকে, ৮৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ।

২. ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগের ২১ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন (12 June 1996 Election History)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯৬ সালটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার পর ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (7th National Parliament Election)। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (Awami League)।

১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন ও গণআন্দোলন (15 February Controversy)

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি একটি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন (Controversial Election) আয়োজন করেছিল, যা অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। তবে তীব্র গণআন্দোলন এবং ‘জনতার মঞ্চ’ কর্মসূচির মুখে সেই সংসদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাধ্য হয়ে ওই ষষ্ঠ জাতীয় সংসদেই ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল’ পাশ করা হয় এবং সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগের বিজয় ও শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব (AL Victory & Sheikh Hasina's 1st Term)

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রথম আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১২ জুন অনুষ্ঠিত ভোটে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), যা ছিল তার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব। অন্যদিকে বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৩. ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: চারদলীয় জোটের ল্যান্ডস্লাইড বিজয় (Eighth Parliamentary Election 2001)

২০০১ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (8th National Parliament Election)। এটি ছিল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থার অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট (Four-Party Alliance) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

জোটবদ্ধ রাজনীতি ও ভোটের সমীকরণ (Alliance Politics and Vote Equation)

নির্বাচনের আগে বিএনপি (BNP), জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (নাফি-মঞ্জু) এবং ইসলামী ঐক্যজোট মিলে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করে। এই জোটবদ্ধ শক্তির মুখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব (Khaleda Zia’s 2nd Term as PM)

নির্বাচনের ফলাফলে চারদলীয় জোট মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২১৬টি আসন (দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয়ী হয় ১৯৩টি আসনে। এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন:

৪. ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: 'মাইনাস টু' ফর্মুলা ও মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয় (Ninth Parliamentary Election 2008)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (9th National Parliament Election) ছিল এক টার্নিং পয়েন্ট। দুই বছরের সেনা-সমর্থিত জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (Emergency Caretaker Government) শাসন শেষে এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসে।

ওয়ান-ইলেভেন ও 'মাইনাস টু' ফর্মুলা (One-Eleven and Minus Two Formula)

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (১/১১) ক্ষমতা গ্রহণের পর ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন সরকার দেশের প্রধান দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে। শীর্ষ এই দুই নেতাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা ইতিহাসে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা (Minus Two Formula) হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) গ্রেপ্তার ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

মহাজোটের ভূমিধস বিজয় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ (Grand Alliance Victory)

দীর্ঘ বন্দিদশা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘মহাজোট' (Grand Alliance)। ‘দিন বদলের সনদ’ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৬৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, আর বিএনপি মাত্র ৩৩টি আসন পেয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

৫. ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিরোধী দলের বর্জন ও ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় (Tenth Parliamentary Election 2014)

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (10th National Parliament Election) এক বিতর্কিত ও ভিন্নধর্মী অধ্যায়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থা বাতিল করার প্রতিবাদে বিএনপি এবং অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন (Boycott) করে।

১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় (153 Uncontested Seats)

নির্বাচনের আগেই ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচিত হন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন না হওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা (AL’s 2nd Consecutive Term)

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের তীব্র আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন শুরু করে।

৬. ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ‘রাতের ভোট’ বিতর্ক ও মহাজোটের বিতর্কিত জয় (Eleventh Parliamentary Election 2018)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (11th National Parliament Election) স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপিসহ প্রায় সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও ভোটের পদ্ধতি নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

‘রাতের ভোট’ বিতর্ক ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ (Night Voting Controversy)

নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দলগুলো এবং সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতেই ভর্তি করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি ইতিহাসে ‘রাতের ভোট’ (Midnight Election) হিসেবে পরিচিতি পায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) তাদের প্রতিবেদনে ৪৭টি আসনে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে। এমনকি পরবর্তীকালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবানবন্দিতেও এই অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

মহাজোটের নিরঙ্কুশ জয় ও বিরোধী দলের বিপর্যয় (Grand Alliance Victory)

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে। শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৭টি আসন (বিএনপি ৬টি) পেয়ে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানায়।

৭. ২০২৪ সালের নির্বাচন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ১৬ বছরের শাসনের অবসান ও আওয়ামী লীগের পতন (July Revolution and Fall of Sheikh Hasina)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালটি এক অবিস্মরণীয় পরিবর্তনের বছর। ৭ জানুয়ারি এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এলেও, মাত্র সাত মাসের মাথায় এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের (Mass Uprising 2024) মুখে দলটির সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

৭ জানুয়ারির একতরফা ও ‘ডামি’ নির্বাচন (Dummy Candidate Controversy)

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মুখে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (12th National Parliament Election) অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের বৈধতা দেখাতে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘ডামি প্রার্থী’ (Dummy Candidate) হিসেবে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ করে দেয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন পায়, আর মহাজোটের শরিক ও ডামি প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়। তবে ভোটারদের অনুপস্থিতি এবং প্রতিযোগিতার অভাবের কারণে এই নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা হারায়।

জুলাই বিপ্লব ও ৫ আগস্টের মহাবিজয় (July Revolution and August 5)

জুলাই মাসে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুতই সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে রূপ নেয়। আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ শত শত শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগ এবং জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত সংঘাতের পর ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ‘জুলাই বিপ্লব’ (July Revolution) হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন:

১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও জয়ী দলের আসন সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের বিগত সংসদ নির্বাচনের ফলাফল (১৯৯১-২০২৪)

নির্বাচনের বছরমোট আসনজয়ী দল/জোটপ্রাপ্ত আসনপ্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ (৫ম সংসদ)৩০০বিএনপি১৪২খালেদা জিয়া
১৯৯৬ (৭ম সংসদ)৩০০আওয়ামী লীগ১৪৬শেখ হাসিনা
২০০১ (৮ম সংসদ)৩০০বিএনপি জোট (৪ দল)২১৬খালেদা জিয়া
২০০৮ (৯ম সংসদ)৩০০আওয়ামী লীগ জোট (মহাজোট)২৬৩শেখ হাসিনা
২০১৪ (১০ম সংসদ)৩০০আওয়ামী লীগ২৩৪শেখ হাসিনা
২০১৮ (১১তম সংসদ)৩০০আওয়ামী লীগ জোট (মহাজোট)২৮৮শেখ হাসিনা
২০২৪ (১২তম সংসদ)৩০০আওয়ামী লীগ২২৩শেখ হাসিনা

নির্বাচনগুলোর সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট ও আসন বিন্যাস

১৯৯১ সাল: বিএনপি ১৪২টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮টি আসন।

১৯৯৬ সাল: ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পায় এবং জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করে। বিএনপি পেয়েছিল ১১৬টি আসন।

২০০১ সাল: বিএনপি একাই ১৯৩টি আসন পায়, আর চারদলীয় জোট মিলে পায় ২১৬টি। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৬২টি আসন।

২০০৮ সাল: আওয়ামী লীগ একাই ২৩০টি আসন পায় এবং মহাজোট মিলে ২৬৩টি। বিএনপি জোট পেয়েছিল মাত্র ৩৩টি আসন।

২০১৪ সাল: বিএনপি ও অধিকাংশ দলের বর্জনের মুখে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। আওয়ামী লীগ মোট ২৩৪টি আসন পায়।

২০১৮ সাল: ‘রাতের ভোট’ হিসেবে বিতর্কিত এই নির্বাচনে মহাজোট ২৮৮টি আসন পায় (আওয়ামী লীগ ২৫৭)। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র ৭টি আসন।

২০২৪ সাল: বিএনপির বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন পায়। তবে এই নির্বাচনের কয়েক মাস পরই ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের (দলীয় প্রধান, প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতা) বিগত ৩৫ বছরের (১৯৯১-২০২৪) জয়ের ইতিহাস নিচে আলাদাভাবে দেওয়া হলো।

বিএনপি (BNP): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী

বিএনপির এই তালিকায় খালেদা জিয়া এবং ২০০১ সালের শক্তিশালী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জয়ের ইতিহাস রয়েছে।

ক্রমনাম (Name)প্রধান আসন (Constituency)জয়ের সালসমূহ (Election Wins)
বেগম খালেদা জিয়াফেনী-১, বগুড়া-৬১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
সাইফুর রহমানসিলেট-১, মৌলভীবাজার-৩১৯৯৬, ২০০১
মওদুদ আহমদনোয়াখালী-৫১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
মির্জা ফখরুল ইসলামঠাকুরগাঁও-১২০০১, ২০১৮ (বগুড়া-৬)
খন্দকার মোশাররফ হোসেনকুমিল্লা-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
মির্জা আব্বাসঢাকা-৬১৯৯১, ২০০১
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ঢাকা-৩১৯৯১
তরিকুল ইসলামযশোর-৩১৯৯১, ২০০১
আব্দুল্লাহ আল নোমানচট্টগ্রাম-৯১৯৯১, ২০০১
১০সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীচট্টগ্রাম-২ / ৬ / ৭১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
১১তারেক রহমানবগুড়া-৭ (উপ-নির্বাচন)২০০১
১২ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াঢাকা-৬১৯৯১, ১৯৯৬
১৩আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীচট্টগ্রাম-১১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
১৪আলতাফ হোসেন চৌধুরীপটুয়াখালী-১২০০১
১৫এম কে আনোয়ারকুমিল্লা-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
১৬আব্দুল মান্নানঢাকা-১০১৯৯১, ২০০১
১৭মির্জা গোলাম হাফিজপঞ্চগড়-১১৯৯১
১৮ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদনোয়াখালী-৫১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
১৯এ এস এম হান্নান শাহগাজীপুর-৪১৯৯১, ১৯৯৬
২০এম শামসুল ইসলামমুন্সীগঞ্জ-৩১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
২১লুৎফুজ্জামান বাবরনেত্রকোণা-৪১৯৯৬, ২০০১
২২নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুঢাকা-৭২০০১
২৩বরকত উল্লাহ বুলুনোয়াখালী-২২০০১
২৪আমান উল্লাহ আমানঢাকা-৩১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
২৫সালাহউদ্দিন আহমেদঢাকা-৪ / কক্সবাজার-১১৯৯৬, ২০০১
২৬রুহুল কবির রিজভী(প্রার্থী হয়েছিলেন)-
২৭ড. ওসমান ফারুককিশোরগঞ্জ-৪২০০১
২৮শাহিদা তারেক দীপ্তিঢাকা২০০১ (সংরক্ষিত)
২৯হারুনুর রশীদচাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩১৯৯৬, ২০১৮
৩০এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতজামালপুর-১২০০১
৩১ইলিয়াস আলীসিলেট-২২০০১
৩২জি কে গউছহবিগঞ্জ(পৌর মেয়র)
৩৩খায়রুল কবির খোকননরসিংদী-১২০০১
৩৪মজিবুর রহমান সরোয়ারবরিশাল-৫১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
৩৫রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুনাটোর-২১৯৯৬, ২০০১
৩৬এমরান সালেহ প্রিন্সময়মনসিংহ-
৩৭শামা ওবায়েদফরিদপুর-২(প্রার্থী)
৩৮নিপুণ রায় চৌধুরীঢাকা(প্রার্থী)
৩৯জয়নুল আবদিন ফারুকনোয়াখালী-১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
৪০শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনমুন্সীগঞ্জ-১১৯৯১
৪১শমসের মবিন চৌধুরীসিলেট-৬২০০১ (উপ-নির্বাচন)
৪২আহসান হাবিব লিংকনকুষ্টিয়া-২১৯৯১
৪৩রুমিন ফারহানাসংরক্ষিত আসন২০১৮
৪৪ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকননোয়াখালী-১২০০৮
৪৫মোসাদ্দেক আলী ফালুঢাকা-১০২০০৪ (উপ-নির্বাচন)
৪৬এম এ হাসেমনোয়াখালী-২২০০১
৪৭আমিনুল হকরাজশাহী-১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১
৪৮নাদিম মোস্তফারাজশাহী-৪১৯৯৬, ২০০১
৪৯মিজানুর রহমান মিনুরাজশাহী-২১৯৯১, ২০০১
৫০বুলবুল (রাজশাহী)রাজশাহী২০০১

আরও পড়ুন:

আওয়ামী লীগ (Awami League): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী

আওয়ামী লীগের এই তালিকায় শেখ হাসিনা এবং তার বিশ্বস্ত দীর্ঘমেয়াদী সংসদ সদস্যদের নাম রয়েছে।

ক্রমনাম (Name)প্রধান আসন (Constituency)জয়ের সালসমূহ (Election Wins)
শেখ হাসিনাগোপালগঞ্জ-৩১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
জিল্লুর রহমানকিশোরগঞ্জ-৬১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮
তোফায়েল আহমেদভোলা-১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
মতিয়া চৌধুরীশেরপুর-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
ওবায়দুল কাদেরনোয়াখালী-৫১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
শেখ ফজলুল করিম সেলিমগোপালগঞ্জ-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
আমীর হোসেন আমুঝালকাঠি-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
মোহাম্মদ নাসিমসিরাজগঞ্জ-১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪, ২০১৮
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসুনামগঞ্জ-২১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪
১০আবুল মাল আব্দুল মুহিতসিলেট-১২০০৮, ২০১৪
১১আসাদুজ্জামান নূরনীলফামারী-২২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১২তাজুল ইসলামকুমিল্লা-৯২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৩এএইচএম মুস্তফা কামালকুমিল্লা-১০১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৪আসাদুজ্জামান খান কামালঢাকা-১২২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৫আনিসুল হকব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৬ডা. দীপুমনিচাঁদপুর-৩২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৭নূর-ই-আলম চৌধুরীমাদারীপুর-১১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৮শাহজাহান খানমাদারীপুর-২১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
১৯ড. আব্দুর রাজ্জাকটাঙ্গাইল-১২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২০ড. হাছান মাহমুদচট্টগ্রাম-৭২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২১ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকনওগাঁ-৪১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২২কামরুল ইসলামঢাকা-২২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২৩সাবের হোসেন চৌধুরীঢাকা-৯১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২৪মির্জা আজমজামালপুর-৩১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২৫মাহবুবউল আলম হানিফকুষ্টিয়া-৩২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২৬জাহাঙ্গীর কবির নানকঢাকা-১৩২০০৮, ২০১৪, ২০২৪
২৭আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমমাদারীপুর-৩ / ঢাকা-৮২০১৪, ২০২৪
২৮নসরুল হামিদ বিপুঢাকা-৩২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২৯জুনায়েদ আহমেদ পলকনাটোর-৩২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৩০মাশরাফি বিন মর্তুজানড়াইল-২২০১৮, ২০২৪
৩১সাকিব আল হাসানমাগুরা-১২০২৪
৩২ড. এ কে আব্দুল মোমেনসিলেট-১২০১৮, ২০২৪
৩৩রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুনরসিংদী-৫১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৩৪সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকিশোরগঞ্জ-১১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
৩৫আ ক ম মোজাম্মেল হকগাজীপুর-১২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৩৬মির্জা গোলাম হাফিজপঞ্চগড়-১১৯৯১ (তৎকালীন স্পিকার)
৩৭খন্দকার মোশাররফ হোসেনফরিদপুর-৩২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
৩৮এনামুল হক শামীমশরীয়তপুর-২২০১৮, ২০২৪
৩৯জাহিদ মালেকমানিকগঞ্জ-৩২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪০শ ম রেজাউল করিমপিরোজপুর-১২০১৮, ২০২৪
৪১আব্দুস শহীদমৌলভীবাজার-৪১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪২ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফচট্টগ্রাম-১১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
৪৩শরিফ আহমেদময়মনসিংহ-২২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪৪বীর বাহাদুর উশৈসিংবান্দরবান১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪৫টিপু মুনশিরংপুর-৪২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪৬ড. মসিউর রহমানপ্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা (সাবেক এমপি)১৯৯১, ১৯৯৬ (খুলনা)
৪৭মোফাজ্জল চৌধুরী মায়াচাঁদপুর-২১৯৯৬, ২০১৪
৪৮কামাল আহমেদ মজুমদারঢাকা-১৫১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
৪৯ফজলে নূর তাপসঢাকা-১০২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
৫০ব্যারিস্টার মহিবুল হাসানচট্টগ্রাম-৯২০১৮, ২০২৪

আরও পড়ুন:

জাতীয় পার্টি (Jatiya Party): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী

জাতীয় পার্টির তালিকায় এরশাদ পরিবারের সদস্য এবং কো-চেয়ারম্যানদের জয়ের ইতিহাস রয়েছে।

ক্রমনাম (Name)প্রধান আসন (Constituency)জয়ের সালসমূহ (Election Wins)
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদরংপুর-৩১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
রওশন এরশাদময়মনসিংহ-৪ / ৭১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
জি এম কাদেরলালমনিরহাট-৩ / রংপুর-৩১৯৯৬, ২০০৮, ২০২৪
আনিসুল ইসলাম মাহমুদচট্টগ্রাম-৫২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
মজিবুল হক চুন্নুকিশোরগঞ্জ-৩১৯৮৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারপটুয়াখালী-১১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮, ২০১৪, ২০২৪
কাজী ফিরোজ রশীদঢাকা-৬১৯৮৬, ২০১৪, ২০১৮
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাঢাকা-৪১৯৮৬, ২০১৪, ২০১৮
ফখরুল ইমামময়মনসিংহ-৮১৯৮৮, ২০১৪, ২০১৮
১০পিীর ফজলুর রহমানসুনামগঞ্জ-৪২০১৪, ২০১৮
১১শামীম হায়দার পাটোয়ারীগাইবান্ধা-১২০১৮ (উপ-নির্বাচন)
১২লিয়াকত হোসেন খোকানারায়ণগঞ্জ-৩২০১৪, ২০১৮
১৩নাসরিন জাহান রত্নাবরিশাল-৬২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
১৪জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুচট্টগ্রাম-৯১৯৮৮, ২০১৪
১৫গোলাম কিবরিয়া টিপুবরিশাল-৩২০০৮, ২০১৮
১৬মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীফেনী-৩২০১৮, ২০২৪
১৭সাদ এরশাদরংপুর-৩২০১৯ (উপ-নির্বাচন)
১৮মোস্তফা আল মাহমুদজামালপুর-২২০২৪
১৯এ কে এম সেলিম ওসমাননারায়ণগঞ্জ-৫২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
২০এ কে এম নাসিম ওসমাননারায়ণগঞ্জ-৫১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮, ২০১৪
২১সালামত উল্লাহচট্টগ্রাম১৯৮৬
২২এম এ সাত্তারজামালপুর-১১৯৮৬, ১৯৮৮
২৩মশিউর রহমান রাঙারংপুর-১২০০১, ২০১৪, ২০১৮
২৪হাফিজ উদ্দিন আহমেদঠাকুরগাঁও-৩২০০৮, ২০২৪
২৫শরিফুল ইসলাম জিন্নাহবগুড়া-২২০১৪, ২০১৮
২৬নূরুল ইসলাম ওমরবগুড়া-৬২০১৪
২৭আলতাফ আলীবগুড়া-৭২০১৪
২৮ইয়াহইয়া চৌধুরীসিলেট-২২০১৪
২৯সেলিম উদ্দিনসিলেট-৫২০১৪
৩০মাখন সরকারময়মনসিংহ১৯৮৬
৩১রোকন উদ্দিনঢাকা১৯৮৬
৩২মহিবুর রহমানপটুয়াখালী১৯৮৬
৩৩আশরাফ উদ্দিন আহমেদমুন্সীগঞ্জ১৯৮৮
৩৪আব্দুল জাব্বারসাতক্ষীরা১৯৮৮
৩৫রেজওয়ান আহমেদগাইবান্ধা১৯৮৬
৩৬লুৎফর রহমানগাইবান্ধা১৯৮৮
৩৭কাজী জাফর আহমেদকুমিল্লা-১২১৯৮৬, ১৯৮৮
৩৮শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন(সাবেক নেতা)১৯৮৬, ১৯৮৮
৩৯আনোয়ার হোসেন মঞ্জু(সাবেক নেতা)১৯৯১, ১৯৯৬
৪০সালাহউদ্দিন আহমেদঢাকা১৯৮৮
৪১রিনা মমতাজসংরক্ষিত২০০৮
৪২মেরিনা রহমানসংরক্ষিত (এরশাদের বোন)২০০৮, ২০১৪
৪৩খোন্দকার মনিষটাঙ্গাইল১৯৮৮
৪৪নাজমুল হুদা(স্বল্প সময় জাপা)-
৪৫আশরাফ হোসেনকুষ্টিয়া১৯৮৬
৪৬মকবুল হোসেনঢাকা১৯৮৬
৪৭শফিকুল ইসলামঢাকা১৯৮৬
৪৮সৈয়দ জোহরা এরশাদসংরক্ষিত২০১৮
৪৯রওশন আরা মান্নানসংরক্ষিত২০০৮, ২০১৪, ২০১৮
৫০নূর ই হাসনা লিলি চৌধুরীসংরক্ষিত২০১৪

আরও পড়ুন:

এসআর