একনজরে বিগত নির্বাচনসমূহের জয়ী দল
নির্বাচনের বছর জয়ী দল/জোট প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ বিএনপি খালেদা জিয়া ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ২০০১ বিএনপি জোট খালেদা জিয়া ২০০৮ আওয়ামী লীগ জোট শেখ হাসিনা ২০১৪ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ২০১৮ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ২০২৪ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা (৫ আগস্ট পদত্যাগ)
আরও পড়ুন:
১. ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: এরশাদ পরবর্তী গণতন্ত্রের নতুন পথচলা (1991 Bangladesh General Election History)
দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (5th National Parliament Election)। সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের (H.M. Ershad) পতনের পর এটিই ছিল প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যেখানে দেশের সকল রাজনৈতিক দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ঐতিহাসিক ভোট (Election Under Interim Govt)
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) অধীনে এই নির্বাচনটি আয়োজিত হয়। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে এটি আজও আলোচিত। এই নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানে সমান লড়াই করে।
বিএনপির জয় ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (Victory of BNP and First Female PM)
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) এককভাবে ১৪২টি আসন লাভ করে এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)। অন্যদিকে, ৮৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ।
২. ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগের ২১ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন (12 June 1996 Election History)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯৬ সালটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার পর ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (7th National Parliament Election)। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (Awami League)।
১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন ও গণআন্দোলন (15 February Controversy)
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি একটি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন (Controversial Election) আয়োজন করেছিল, যা অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। তবে তীব্র গণআন্দোলন এবং ‘জনতার মঞ্চ’ কর্মসূচির মুখে সেই সংসদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাধ্য হয়ে ওই ষষ্ঠ জাতীয় সংসদেই ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল’ পাশ করা হয় এবং সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগের বিজয় ও শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব (AL Victory & Sheikh Hasina's 1st Term)
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রথম আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১২ জুন অনুষ্ঠিত ভোটে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), যা ছিল তার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব। অন্যদিকে বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৩. ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: চারদলীয় জোটের ল্যান্ডস্লাইড বিজয় (Eighth Parliamentary Election 2001)
২০০১ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (8th National Parliament Election)। এটি ছিল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থার অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট (Four-Party Alliance) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।
জোটবদ্ধ রাজনীতি ও ভোটের সমীকরণ (Alliance Politics and Vote Equation)
নির্বাচনের আগে বিএনপি (BNP), জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (নাফি-মঞ্জু) এবং ইসলামী ঐক্যজোট মিলে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করে। এই জোটবদ্ধ শক্তির মুখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব (Khaleda Zia’s 2nd Term as PM)
নির্বাচনের ফলাফলে চারদলীয় জোট মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২১৬টি আসন (দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয়ী হয় ১৯৩টি আসনে। এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন:
৪. ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: 'মাইনাস টু' ফর্মুলা ও মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয় (Ninth Parliamentary Election 2008)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (9th National Parliament Election) ছিল এক টার্নিং পয়েন্ট। দুই বছরের সেনা-সমর্থিত জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (Emergency Caretaker Government) শাসন শেষে এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসে।
ওয়ান-ইলেভেন ও 'মাইনাস টু' ফর্মুলা (One-Eleven and Minus Two Formula)
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (১/১১) ক্ষমতা গ্রহণের পর ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন সরকার দেশের প্রধান দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে। শীর্ষ এই দুই নেতাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা ইতিহাসে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা (Minus Two Formula) হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) গ্রেপ্তার ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মহাজোটের ভূমিধস বিজয় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ (Grand Alliance Victory)
দীর্ঘ বন্দিদশা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘মহাজোট' (Grand Alliance)। ‘দিন বদলের সনদ’ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৬৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, আর বিএনপি মাত্র ৩৩টি আসন পেয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
৫. ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিরোধী দলের বর্জন ও ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় (Tenth Parliamentary Election 2014)
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (10th National Parliament Election) এক বিতর্কিত ও ভিন্নধর্মী অধ্যায়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থা বাতিল করার প্রতিবাদে বিএনপি এবং অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন (Boycott) করে।
১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় (153 Uncontested Seats)
নির্বাচনের আগেই ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচিত হন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন না হওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
আওয়ামী লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা (AL’s 2nd Consecutive Term)
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের তীব্র আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন শুরু করে।
৬. ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ‘রাতের ভোট’ বিতর্ক ও মহাজোটের বিতর্কিত জয় (Eleventh Parliamentary Election 2018)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (11th National Parliament Election) স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপিসহ প্রায় সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও ভোটের পদ্ধতি নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
‘রাতের ভোট’ বিতর্ক ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ (Night Voting Controversy)
নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দলগুলো এবং সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতেই ভর্তি করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি ইতিহাসে ‘রাতের ভোট’ (Midnight Election) হিসেবে পরিচিতি পায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) তাদের প্রতিবেদনে ৪৭টি আসনে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে। এমনকি পরবর্তীকালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবানবন্দিতেও এই অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
মহাজোটের নিরঙ্কুশ জয় ও বিরোধী দলের বিপর্যয় (Grand Alliance Victory)
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে। শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৭টি আসন (বিএনপি ৬টি) পেয়ে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানায়।
৭. ২০২৪ সালের নির্বাচন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ১৬ বছরের শাসনের অবসান ও আওয়ামী লীগের পতন (July Revolution and Fall of Sheikh Hasina)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালটি এক অবিস্মরণীয় পরিবর্তনের বছর। ৭ জানুয়ারি এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এলেও, মাত্র সাত মাসের মাথায় এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের (Mass Uprising 2024) মুখে দলটির সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
৭ জানুয়ারির একতরফা ও ‘ডামি’ নির্বাচন (Dummy Candidate Controversy)
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মুখে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (12th National Parliament Election) অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের বৈধতা দেখাতে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘ডামি প্রার্থী’ (Dummy Candidate) হিসেবে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ করে দেয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন পায়, আর মহাজোটের শরিক ও ডামি প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়। তবে ভোটারদের অনুপস্থিতি এবং প্রতিযোগিতার অভাবের কারণে এই নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা হারায়।
জুলাই বিপ্লব ও ৫ আগস্টের মহাবিজয় (July Revolution and August 5)
জুলাই মাসে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুতই সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে রূপ নেয়। আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ শত শত শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগ এবং জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত সংঘাতের পর ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ‘জুলাই বিপ্লব’ (July Revolution) হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন:
১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও জয়ী দলের আসন সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশের বিগত সংসদ নির্বাচনের ফলাফল (১৯৯১-২০২৪)
নির্বাচনের বছর মোট আসন জয়ী দল/জোট প্রাপ্ত আসন প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ (৫ম সংসদ) ৩০০ বিএনপি ১৪২ খালেদা জিয়া ১৯৯৬ (৭ম সংসদ) ৩০০ আওয়ামী লীগ ১৪৬ শেখ হাসিনা ২০০১ (৮ম সংসদ) ৩০০ বিএনপি জোট (৪ দল) ২১৬ খালেদা জিয়া ২০০৮ (৯ম সংসদ) ৩০০ আওয়ামী লীগ জোট (মহাজোট) ২৬৩ শেখ হাসিনা ২০১৪ (১০ম সংসদ) ৩০০ আওয়ামী লীগ ২৩৪ শেখ হাসিনা ২০১৮ (১১তম সংসদ) ৩০০ আওয়ামী লীগ জোট (মহাজোট) ২৮৮ শেখ হাসিনা ২০২৪ (১২তম সংসদ) ৩০০ আওয়ামী লীগ ২২৩ শেখ হাসিনা
নির্বাচনগুলোর সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট ও আসন বিন্যাস
১৯৯১ সাল: বিএনপি ১৪২টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮টি আসন।
১৯৯৬ সাল: ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পায় এবং জাতীয় পার্টির সমর্থনে সরকার গঠন করে। বিএনপি পেয়েছিল ১১৬টি আসন।
২০০১ সাল: বিএনপি একাই ১৯৩টি আসন পায়, আর চারদলীয় জোট মিলে পায় ২১৬টি। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৬২টি আসন।
২০০৮ সাল: আওয়ামী লীগ একাই ২৩০টি আসন পায় এবং মহাজোট মিলে ২৬৩টি। বিএনপি জোট পেয়েছিল মাত্র ৩৩টি আসন।
২০১৪ সাল: বিএনপি ও অধিকাংশ দলের বর্জনের মুখে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। আওয়ামী লীগ মোট ২৩৪টি আসন পায়।
২০১৮ সাল: ‘রাতের ভোট’ হিসেবে বিতর্কিত এই নির্বাচনে মহাজোট ২৮৮টি আসন পায় (আওয়ামী লীগ ২৫৭)। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র ৭টি আসন।
২০২৪ সাল: বিএনপির বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন পায়। তবে এই নির্বাচনের কয়েক মাস পরই ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের (দলীয় প্রধান, প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতা) বিগত ৩৫ বছরের (১৯৯১-২০২৪) জয়ের ইতিহাস নিচে আলাদাভাবে দেওয়া হলো।
বিএনপি (BNP): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী
বিএনপির এই তালিকায় খালেদা জিয়া এবং ২০০১ সালের শক্তিশালী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জয়ের ইতিহাস রয়েছে।
ক্রম নাম (Name) প্রধান আসন (Constituency) জয়ের সালসমূহ (Election Wins) ১ বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ২ সাইফুর রহমান সিলেট-১, মৌলভীবাজার-৩ ১৯৯৬, ২০০১ ৩ মওদুদ আহমদ নোয়াখালী-৫ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ৪ মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-১ ২০০১, ২০১৮ (বগুড়া-৬) ৫ খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ৬ মির্জা আব্বাস ঢাকা-৬ ১৯৯১, ২০০১ ৭ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ ১৯৯১ ৮ তরিকুল ইসলাম যশোর-৩ ১৯৯১, ২০০১ ৯ আব্দুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম-৯ ১৯৯১, ২০০১ ১০ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-২ / ৬ / ৭ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ১১ তারেক রহমান বগুড়া-৭ (উপ-নির্বাচন) ২০০১ ১২ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ঢাকা-৬ ১৯৯১, ১৯৯৬ ১৩ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ১৪ আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী-১ ২০০১ ১৫ এম কে আনোয়ার কুমিল্লা-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ১৬ আব্দুল মান্নান ঢাকা-১০ ১৯৯১, ২০০১ ১৭ মির্জা গোলাম হাফিজ পঞ্চগড়-১ ১৯৯১ ১৮ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নোয়াখালী-৫ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ১৯ এ এস এম হান্নান শাহ গাজীপুর-৪ ১৯৯১, ১৯৯৬ ২০ এম শামসুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-৩ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ২১ লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোণা-৪ ১৯৯৬, ২০০১ ২২ নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ঢাকা-৭ ২০০১ ২৩ বরকত উল্লাহ বুলু নোয়াখালী-২ ২০০১ ২৪ আমান উল্লাহ আমান ঢাকা-৩ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ২৫ সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৪ / কক্সবাজার-১ ১৯৯৬, ২০০১ ২৬ রুহুল কবির রিজভী (প্রার্থী হয়েছিলেন) - ২৭ ড. ওসমান ফারুক কিশোরগঞ্জ-৪ ২০০১ ২৮ শাহিদা তারেক দীপ্তি ঢাকা ২০০১ (সংরক্ষিত) ২৯ হারুনুর রশীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ১৯৯৬, ২০১৮ ৩০ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ ২০০১ ৩১ ইলিয়াস আলী সিলেট-২ ২০০১ ৩২ জি কে গউছ হবিগঞ্জ (পৌর মেয়র) ৩৩ খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ ২০০১ ৩৪ মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশাল-৫ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ৩৫ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর-২ ১৯৯৬, ২০০১ ৩৬ এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ - ৩৭ শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ (প্রার্থী) ৩৮ নিপুণ রায় চৌধুরী ঢাকা (প্রার্থী) ৩৯ জয়নুল আবদিন ফারুক নোয়াখালী-১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ৪০ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মুন্সীগঞ্জ-১ ১৯৯১ ৪১ শমসের মবিন চৌধুরী সিলেট-৬ ২০০১ (উপ-নির্বাচন) ৪২ আহসান হাবিব লিংকন কুষ্টিয়া-২ ১৯৯১ ৪৩ রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত আসন ২০১৮ ৪৪ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নোয়াখালী-১ ২০০৮ ৪৫ মোসাদ্দেক আলী ফালু ঢাকা-১০ ২০০৪ (উপ-নির্বাচন) ৪৬ এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ ২০০১ ৪৭ আমিনুল হক রাজশাহী-১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ৪৮ নাদিম মোস্তফা রাজশাহী-৪ ১৯৯৬, ২০০১ ৪৯ মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী-২ ১৯৯১, ২০০১ ৫০ বুলবুল (রাজশাহী) রাজশাহী ২০০১
আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ (Awami League): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী
আওয়ামী লীগের এই তালিকায় শেখ হাসিনা এবং তার বিশ্বস্ত দীর্ঘমেয়াদী সংসদ সদস্যদের নাম রয়েছে।
ক্রম নাম (Name) প্রধান আসন (Constituency) জয়ের সালসমূহ (Election Wins) ১ শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২ জিল্লুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৬ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ৩ তোফায়েল আহমেদ ভোলা-১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪ মতিয়া চৌধুরী শেরপুর-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৫ ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৬ শেখ ফজলুল করিম সেলিম গোপালগঞ্জ-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৭ আমীর হোসেন আমু ঝালকাঠি-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৮ মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪, ২০১৮ ৯ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জ-২ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ১০ আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট-১ ২০০৮, ২০১৪ ১১ আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারী-২ ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১২ তাজুল ইসলাম কুমিল্লা-৯ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৩ এএইচএম মুস্তফা কামাল কুমিল্লা-১০ ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৪ আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকা-১২ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৫ আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৬ ডা. দীপুমনি চাঁদপুর-৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৭ নূর-ই-আলম চৌধুরী মাদারীপুর-১ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৮ শাহজাহান খান মাদারীপুর-২ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ১৯ ড. আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইল-১ ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২০ ড. হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম-৭ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২১ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক নওগাঁ-৪ ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২২ কামরুল ইসলাম ঢাকা-২ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২৩ সাবের হোসেন চৌধুরী ঢাকা-৯ ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২৪ মির্জা আজম জামালপুর-৩ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২৫ মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২৬ জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা-১৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০২৪ ২৭ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মাদারীপুর-৩ / ঢাকা-৮ ২০১৪, ২০২৪ ২৮ নসরুল হামিদ বিপু ঢাকা-৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২৯ জুনায়েদ আহমেদ পলক নাটোর-৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৩০ মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইল-২ ২০১৮, ২০২৪ ৩১ সাকিব আল হাসান মাগুরা-১ ২০২৪ ৩২ ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেট-১ ২০১৮, ২০২৪ ৩৩ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু নরসিংদী-৫ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৩৪ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৩৫ আ ক ম মোজাম্মেল হক গাজীপুর-১ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৩৬ মির্জা গোলাম হাফিজ পঞ্চগড়-১ ১৯৯১ (তৎকালীন স্পিকার) ৩৭ খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর-৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৩৮ এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর-২ ২০১৮, ২০২৪ ৩৯ জাহিদ মালেক মানিকগঞ্জ-৩ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪০ শ ম রেজাউল করিম পিরোজপুর-১ ২০১৮, ২০২৪ ৪১ আব্দুস শহীদ মৌলভীবাজার-৪ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪২ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ চট্টগ্রাম-১ ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৪৩ শরিফ আহমেদ ময়মনসিংহ-২ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪৪ বীর বাহাদুর উশৈসিং বান্দরবান ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪৫ টিপু মুনশি রংপুর-৪ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪৬ ড. মসিউর রহমান প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা (সাবেক এমপি) ১৯৯১, ১৯৯৬ (খুলনা) ৪৭ মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া চাঁদপুর-২ ১৯৯৬, ২০১৪ ৪৮ কামাল আহমেদ মজুমদার ঢাকা-১৫ ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৪৯ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৫০ ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চট্টগ্রাম-৯ ২০১৮, ২০২৪
আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টি (Jatiya Party): শীর্ষ ৫০ হেভিওয়েট বিজয়ী
জাতীয় পার্টির তালিকায় এরশাদ পরিবারের সদস্য এবং কো-চেয়ারম্যানদের জয়ের ইতিহাস রয়েছে।
ক্রম নাম (Name) প্রধান আসন (Constituency) জয়ের সালসমূহ (Election Wins) ১ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রংপুর-৩ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ২ রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ / ৭ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৩ জি এম কাদের লালমনিরহাট-৩ / রংপুর-৩ ১৯৯৬, ২০০৮, ২০২৪ ৪ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রাম-৫ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৫ মজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩ ১৯৮৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ৬ এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮, ২০১৪, ২০২৪ ৭ কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকা-৬ ১৯৮৬, ২০১৪, ২০১৮ ৮ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা-৪ ১৯৮৬, ২০১৪, ২০১৮ ৯ ফখরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮ ১৯৮৮, ২০১৪, ২০১৮ ১০ পিীর ফজলুর রহমান সুনামগঞ্জ-৪ ২০১৪, ২০১৮ ১১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ২০১৮ (উপ-নির্বাচন) ১২ লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩ ২০১৪, ২০১৮ ১৩ নাসরিন জাহান রত্না বরিশাল-৬ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ১৪ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু চট্টগ্রাম-৯ ১৯৮৮, ২০১৪ ১৫ গোলাম কিবরিয়া টিপু বরিশাল-৩ ২০০৮, ২০১৮ ১৬ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩ ২০১৮, ২০২৪ ১৭ সাদ এরশাদ রংপুর-৩ ২০১৯ (উপ-নির্বাচন) ১৮ মোস্তফা আল মাহমুদ জামালপুর-২ ২০২৪ ১৯ এ কে এম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ২০ এ কে এম নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮, ২০১৪ ২১ সালামত উল্লাহ চট্টগ্রাম ১৯৮৬ ২২ এম এ সাত্তার জামালপুর-১ ১৯৮৬, ১৯৮৮ ২৩ মশিউর রহমান রাঙা রংপুর-১ ২০০১, ২০১৪, ২০১৮ ২৪ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ঠাকুরগাঁও-৩ ২০০৮, ২০২৪ ২৫ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া-২ ২০১৪, ২০১৮ ২৬ নূরুল ইসলাম ওমর বগুড়া-৬ ২০১৪ ২৭ আলতাফ আলী বগুড়া-৭ ২০১৪ ২৮ ইয়াহইয়া চৌধুরী সিলেট-২ ২০১৪ ২৯ সেলিম উদ্দিন সিলেট-৫ ২০১৪ ৩০ মাখন সরকার ময়মনসিংহ ১৯৮৬ ৩১ রোকন উদ্দিন ঢাকা ১৯৮৬ ৩২ মহিবুর রহমান পটুয়াখালী ১৯৮৬ ৩৩ আশরাফ উদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ ১৯৮৮ ৩৪ আব্দুল জাব্বার সাতক্ষীরা ১৯৮৮ ৩৫ রেজওয়ান আহমেদ গাইবান্ধা ১৯৮৬ ৩৬ লুৎফর রহমান গাইবান্ধা ১৯৮৮ ৩৭ কাজী জাফর আহমেদ কুমিল্লা-১২ ১৯৮৬, ১৯৮৮ ৩৮ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (সাবেক নেতা) ১৯৮৬, ১৯৮৮ ৩৯ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (সাবেক নেতা) ১৯৯১, ১৯৯৬ ৪০ সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা ১৯৮৮ ৪১ রিনা মমতাজ সংরক্ষিত ২০০৮ ৪২ মেরিনা রহমান সংরক্ষিত (এরশাদের বোন) ২০০৮, ২০১৪ ৪৩ খোন্দকার মনিষ টাঙ্গাইল ১৯৮৮ ৪৪ নাজমুল হুদা (স্বল্প সময় জাপা) - ৪৫ আশরাফ হোসেন কুষ্টিয়া ১৯৮৬ ৪৬ মকবুল হোসেন ঢাকা ১৯৮৬ ৪৭ শফিকুল ইসলাম ঢাকা ১৯৮৬ ৪৮ সৈয়দ জোহরা এরশাদ সংরক্ষিত ২০১৮ ৪৯ রওশন আরা মান্নান সংরক্ষিত ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ৫০ নূর ই হাসনা লিলি চৌধুরী সংরক্ষিত ২০১৪
আরও পড়ুন:





