বাংলাদেশি কর্মী গমনের অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরব। বৈধভাবে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন কক্সবাজারের খোরশেদ আলম। খরচ হয় তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন বাস্তবতা ভিন্ন। দালালের করা মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পেয়ে ভিসা নবায়ন করেন অন্যত্র। সেই মালিককে দিতে হয় মাসিক কমিশন। অর্থ পরিশোধে গড়বড় হতেই বিপত্তি। ভিসা বাতিল, এমনকি জেল-জরিমানাসহ দেশে ফেরার মতো দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় তাকে।
খোরশেদ আলম বলেন, ‘ধার নিয়ে বিদেশ গেছলাম, সেই টাকাগুলো কীভাবে শোধ করবো। আমাকে যারা এভাবে নিছে তাদের বিচার চাই।’
সদ্য সমাপ্ত বছরে বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ২৬ হাজার। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবে গেছেন সাত লাখ ৫১ হাজারের বেশি কর্মী। গেল অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকেও সৌদি প্রবাসীরা এগিয়ে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশটি থেকে ২০৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪২৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন সৌদি প্রবাসীরা।
কিন্তু সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসা দেশটির শ্রমবাজারও টেকসই হচ্ছে না। গেল দুই বছরে জেল-জরিমানা আদায়সহ এক লাখের মতো শ্রমিক ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি। নতুন করে তিন মাসের ইকামার ফাঁদে পড়েও নিঃস্ব হচ্ছেন বহু কর্মী। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা রাষ্ট্রের গাফিলতিকেই দুষছেন।
আরও পড়ুন:
ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার মানুষের গল্পগুলো আমাদের সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের বা মন্ত্রণালয়ের শোনা উচিত, কেন ফিরে আসছে। যদি রিক্রুটিং এজেন্সির গাফিলতির কারণে ফিরে আসে তাহলে তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি দূতাবাসের দায়িত্বহীনতার কোনো ঘাটতি থাকলে দূতাবাসের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘সৌদি আরবে রাতারাতি কিছু কোম্পানি গজিয়ে উঠেছে। তারা বলছে, চাকরি আছে, কাজ আছে। কিন্তু যাওয়ার পর কাজ পাচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আমি মনে করি রাষ্ট্রের এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা দরকার। আমাদের কর্মীরা যেন সৌদি আরব গিয়ে শূন্য হাতে ফেরত না আসে সে বিষয়ে আমাদের দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের কাজ রা দরকার।’
শ্রমিক প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কিছু প্রবাসীর ভিসা সোর্সিং ও স্বজনদের মাধ্যমে পাওয়া ভিসাগুলোতে ঝুঁকি বেশি। যদিও সৌদি যাবার আগে এখন দিতে হয় তাকামল পরীক্ষা।
বায়রার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক এবং এফএনএফ যারা করছেন তারা কাজ শেখার ব্যাপারে আগ্রহী না হবো, কাজ শেখানোর ব্যাপারে আগ্রহী না হবো। এখানে দুই সাইডেই কাজ করতে হবে। তাকামলকে যদি সহজীকরণ না করা যায়, জনগণকে যদি এটার সঙ্গে ফ্রেন্ডলি না করা যায়, তাহলে আমাদের দেশ অনেক বড় একটা হুমকিতে পড়বে।’
এ ব্যাপারে সৌদি আরব বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের শ্রমবাজারের অস্থিরতা কাটাতে এখনই যৌথ উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





