অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নির্বাচন, ইশতেহারে নজর সাধারণ মানুষের

বন্দর, টাকা ও একজন শ্রমিক
বন্দর, টাকা ও একজন শ্রমিক | ছবি: এখন টিভি
2

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারের দিকে তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংকটের এসময়ে ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে অর্থনীতিকে। পাশাপাশি থাকতে হবে বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।

অর্থনীতিতে বড় ছয়টি ক্ষত রেখেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, খেলাপি ঋণ, দুর্বল রাজস্ব, লাগামহীন অর্থ পাচার এবং তলানীতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ-এসব সংকটের আসল চিত্র উদঘাটনেই বছর পার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া দুর্বল বিনিয়োগসহ নানা কারণে এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দেশের অর্থনীতি।

তবে স্বল্পসময়ে বেশকিছু সংস্কার কাজে হাত দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ধীরগতিতে হলেও কমে আসে মূল্যস্ফীতি। সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থেকে সদ্য বিদায়ী বছরের নভেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি নেমেছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। তবে একই সময়ে মজুরি প্রবৃদ্ধি কমায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি।

দেশের অর্থনীতির যখন এ হাল তখনই দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু তাতে কতটা জায়গা পাবে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার অঙ্গীকার নয়, অর্থনীতির ক্ষত মেরামতে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ইশতেহার থাকতে হবে দলগুলোর।

আরও পড়ুন:

সিপিডি অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাজনৈতিক ইশতেহারের মধ্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দর্শনটাও যেমন থাকবে একইরকমভাবে নীতির একটি ধারনাগত কাঠামোও তারা দিবেন। অনেকগুলো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতে হবে। একটি বড় জায়গা হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। দ্বিতীয় আছে হলো মূল্যস্ফীতি। জনসাধারণ চায় তাদের একটু হলেও মূল্যস্ফীতি থেকে স্বস্তিতে নিয়ে আসা হোক।’

সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আনা। আমরা দেখছি প্রাইভেট সেক্টরের সব জায়গায় এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছে। এ জায়গায় তাদের চাঞ্চল্য আনার জন্য তাদের বলতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরের যে বিনিয়োগ সেখানে যেন চাঞ্চল্য আসে।’

অতীতের নির্বাচনের ইশতেহার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি ও গ্রামগঞ্জের উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়ন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতিতে। তবে এমন আশ্বাস মানুষের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সে নিয়ে প্রশ্ন বরাবরের।

বাংলাদেশ পলিসি একচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘ইশতেহার এক জিনিস। তবে কী করবো, কীভাবে বাস্তবায়ন করবো ভোটারদের সেগুলোও যদি না বলি তাহলে ইশতেহার বাস্তবায়ন হবে না কি পূর্বের অভিজ্ঞতার মতো মানুষের মনে সংশয় থেকে যেতে পারে। সেই ইশতেহারে কী আছে অর্থনৈতিক দিক থেকে— সেটি আমাদের যা প্রয়োজন, দেশের মানুষের যা প্রয়োজন। দেশের লং টার্ম অর্থনীতিতে সবকিছুর সঙ্গে মিলে একটি ব্যালেন্স কনটেন্ট আছে না কি এটিও গুরুত্বপূর্ণ।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ভোটে অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে অর্থনীতির উন্নয়নে দেয়া পরিকল্পনা প্রভাবক ভূমিকা রাখবে।

এফএস