আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের একজন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তার বিরুদ্ধে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক। দুদকের বিদ্যমান আইনে সেই মামলায় টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তার জামিন হয়নি।
তবে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। যেখানে ২০০৪ সালের আইনে একটি নতুন উপধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করে জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা ইভয় দিতে রাজি থাকলে আদালত চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সাবেক জেলা জজ ও দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির এই নেতা বলেন, এতে আদালত প্রভাবিত হবে এবং ন্যায়বিচার বঞ্চিত হবে।
সাবেক জেলা জজ ও দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি শেষ করে দিলো, এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি নষ্ট করলো সে প্রথমদিনেই গিয়ে বলবে যে আমি আমার টাকা জমা দিয়ে দেব, আমাকে মাফ করে দেন। কাজেই আমি এটার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। আইনটা যথাযথ সংশোধিত হয়নি। যারা দুর্নীতি করে তাদের সহযোগিতা করার জন্য করা হয়েছে।’
দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অভিযোগ করেন, তাদের প্রস্তাবনায় এমন কোনো বিষয়ই ছিল না। এই বিধান ঢালাওভাবে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেবে।
আরও পড়ুন:
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যারা বিশেষ করে প্রভাবশালী তারা কিন্তু এ বিচারিক প্রক্রিয়াকে জিম্মি করে তারা সুবিধাটা আদায় করে নিবে। দুর্নীতির সহায়ক একটা আইন হয়ে গেলো বলে আমরা মনে করছি।’
এমন আইন দুর্নীতিবাজদের আরো উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন অপরাধ বিশষজ্ঞরা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘শাস্তি এবং টাকা ফেরত দেয়া এ দুটো বিষয় রাখলেই আমাদের সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটা ইতিবাচকতা তৈরি করবে।’
যদিও দুদক চেয়ারম্যান বলছেন নতুন আইন নিয়ে ৩৫ দিন মেয়াদকালের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনও আছে।
দুদকের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়গুলো আপোসযোগ্য না। নতুন আইনে যদি আপোসের কথা বলা থাকে আমাদের এটা পুনরায় পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে হবে। আমরা এটা দেখবো। তারপর আমরা আমাদের বেসিক নীতিতেই থাকবো।’





