বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) উদ্ভাবিত নতুন ই-রিকশাটি বর্তমানের অনিরাপদ ও অবৈজ্ঞানিক ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি আধুনিক এবং নিরাপদ বিকল্প। এটি নকশা করার সময় যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং পরিবেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
একনজরে বুয়েট ই-রিকশার স্পেসিফিকেশন
- ব্যাটারি রেঞ্জ: এক চার্জে ৭০-৮০ কিলোমিটার।
- সর্বোচ্চ গতি: ৩০ কিমি/ঘণ্টা।
- ব্রেক টাইপ: হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক (৩টি চাকাতেই)।
- আকার: দৈর্ঘ্য ৩.২ মি, প্রস্থ ১.৫ মি, উচ্চতা ২.১ মি।
- নিরাপত্তা: লুকিং গ্লাস, হর্ন, ইন্ডিকেটর ও মজবুত কাঠামো।
আরও পড়ুন:
প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় বুয়েটের নকশা করা ই-রিকশার প্রধান সুবিধা ও ১৬টি বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তিন চাকার ডিস্ক ব্রেক (Three-wheel Disc Brakes): প্রচলিত রিকশায় শুধু পেছনের চাকায় ব্রেক থাকে, কিন্তু বুয়েটের মডেলে সামনের ও পেছনের তিন চাকাতেই শক্তিশালী ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে।
২. হাইড্রোলিক ব্রেকিং (Hydraulic Braking System): এটি চালকের সামান্য চাপে রিকশাকে দ্রুত এবং সুষমভাবে থামাতে সাহায্য করে, ফলে উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে না।
৩. পার্কিং ব্রেক (Parking Brake): ঢালু রাস্তায় রিকশা যাতে গড়িয়ে না যায়, সেজন্য এতে আলাদা পার্কিং ব্রেক বা হ্যান্ড ব্রেক যুক্ত করা হয়েছে।
৪. ব্যালেন্সড চেসিস (Balanced Chassis): রিকশার ভরকেন্দ্র বা সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি নিচে রাখা হয়েছে, যা উচ্চ গতিতেও রিকশাকে স্থিতিশীল বা ব্যালেন্সড রাখে।
আরও পড়ুন:
৫. স্মার্ট কন্ট্রোলার (Smart Controller): ব্যাটারির চার্জ এবং মোটরের গতি নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এতে আধুনিক কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হয়েছে।
৬. হাই-বিম হেডলাইট (High-beam Headlights): রাতে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শক্তিশালী হেডলাইট দেওয়া হয়েছে।
৭. টার্ন ইন্ডিকেটর (Turn Indicators): ডানে বা বামে মোড় নেওয়ার জন্য আধুনিক সিগন্যাল লাইট বা ইন্ডিকেটর যুক্ত করা হয়েছে।
৮. রিয়ার ভিউ মিরর (Rear View Mirrors): পেছনে আসা যানবাহন দেখার জন্য দুই পাশে দুটি লুকিং গ্লাস বা আয়না দেওয়া হয়েছে।
৯. ইলেকট্রিক হর্ন (Electric Horn): উচ্চ শব্দসম্পন্ন ইলেকট্রিক হর্ন যুক্ত করা হয়েছে যা ট্রাফিক চলাচলে সহায়ক।
১০. উইন্ডশিল্ড (Glass Windshield): চালকের সামনে কাঁচের উইন্ডশিল্ড বা উইন্ডস্ক্রিন দেওয়া হয়েছে যা বাতাস, ধুলোবালি ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে।
১১. মজবুত বডি ফ্রেম (Reinforced Body Frame): রিকশার কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি যাতে এটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি ওজন অনায়াসে বহন করতে পারে।
আরও পড়ুন:
১২. সাসপেনশন সিস্টেম (Suspension System): ভাঙা রাস্তায় আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য উন্নত মানের শক অ্যাবজরবার বা সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে।
১৩. রোদ-বৃষ্টির ছাউনি (Protective Canopy): যাত্রী ও চালকের জন্য মজবুত এবং টেকসই ছাদ বা ছাউনি নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৪. লিথিয়াম ব্যাটারি (Lithium-ion Battery): অ্যাসিড ব্যাটারির বদলে এতে হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।
১৫. স্পিড লিমিটর (Speed Limiter): রিকশার গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখার প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে।
১৬. স্মার্ট মিটার (Digital Dashboard): চালকের সামনের ড্যাশবোর্ডে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণ এবং বর্তমান গতি দেখার জন্য ডিজিটাল মিটার যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উন্নত ব্রেকিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Advanced Braking & Control)
হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক (Hydraulic Disc Brake): প্রচলিত রিকশার মতো এতে কেবল পেছনের চাকায় ব্রেক নেই। এর তিনটি চাকাতেই শক্তিশালী হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
পার্কিং ব্রেক (Parking Brake): বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে এতে পার্কিং ব্রেক বা হ্যান্ড ব্রেক যুক্ত করা হয়েছে, যা ঢালু রাস্তায় রিকশাটিকে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
কারিগরি ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য (Technical & Structural Features)
লিথিয়াম ব্যাটারি (Lithium-ion Battery): এতে ৩৮ ভোল্টের পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রচলিত অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় হালকা এবং দীর্ঘস্থায়ী।
গতিসীমা (Speed Limit): নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
লোড ক্ষমতা (Load Capacity): এই রিকশাটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন অনায়াসেই বহন করতে পারে।
উইন্ডশিল্ড ও ছাউনি (Windshield & Canopy): এতে উন্নত মানের কাঁচের উইন্ডশিল্ড এবং মজবুত ছাউনি রয়েছে, যা বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসে চালক ও যাত্রীদের সুরক্ষা দেবে।
আরও পড়ুন:
স্মার্ট প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা (Smart Technology)
জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing): এই রিকশাগুলোতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে এটি নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা মহাসড়কে প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দেবে বা বন্ধ হয়ে যাবে।
ডিজিটাল লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ (Digital Licensing): প্রতিটি চালককে বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
হেডলাইট ও ইন্ডিকেটর (Lighting & Indicators): নিরাপদ রাত্রিকালীন চলাচলের জন্য এতে হাই-বিম ও লো-বিম সংবলিত শক্তিশালী হেডলাইট এবং ডানে-বামে মোড় নেওয়ার জন্য সিগন্যাল লাইট বা ইন্ডিকেটর রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিবেশ ও অর্থনীতিতে প্রভাব (Environmental and economic impact)
সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, "ঢাকার রাস্তায় গাড়ির গড় গতি অনেক কম, সেখানে উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিন জ্বালানি অপচয় করে। বুয়েটের এই স্বল্পগতির ই-রিকশা জ্বালানি সাশ্রয় করবে এবং বায়ুদূষণ (Air pollution) ও সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।" এছাড়া এটি রিকশাচালকদের জন্য এক সম্মানজনক এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) উদ্ভাবিত আধুনিক ই-রিকশা প্রাথমিকভাবে ঢাকার যে দুটি এলাকায় চলাচলের অনুমতি পেয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি জনবহুল এলাকা— আফতাবনগর এবং ধানমন্ডি/জিগাতলায় এই রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এলাকাভিত্তিক বিস্তারিত:
আফতাবনগর: বাড্ডা-রামপুরা সড়ক থেকে আফতাবনগরে প্রবেশের সংযোগ সড়কে এই ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জিগাতলা ও ধানমন্ডি: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে জিগাতলা ও ধানমন্ডি এলাকায় নতুন নকশার এই নিরাপদ রিকশাগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে।
এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাইলট পর্যায়ের এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পল্টন, উত্তরা, মতিঝিল এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরে এই সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
এই রিকশাগুলো জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing) প্রযুক্তিতে চলবে, যার ফলে এগুলো নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা মহাসড়কে প্রবেশ করতে পারবে না। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল লাইসেন্স প্রদান করাও এই উদ্যোগের অংশ।
আরও পড়ুন:
বুয়েটের ই-রিকশা: ১২ হাজার চালকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, শোরুম থেকে কেনা যাবে ২ লাখ টাকায়
রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে বুয়েটের (BUET) নকশা করা ই-রিকশার পাইলট প্রকল্প এখন মাঠ পর্যায়ে। এই প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ১২ হাজার রিকশাচালককে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার প্রায় ২ লাখ চালককে এই উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
চালকদের প্রশিক্ষণ ও ট্রাফিক সচেতনতা (Driver Training & Traffic Awareness)
আফতাবনগরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, "এই পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে রিকশাচালক ভাইদের ট্রাফিক আইনের (Traffic rules) প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারব। এটি কেবল যাতায়াত নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ।" প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের ডিজিটাল লাইসেন্স প্রদান করা হবে যা তাদের দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেবে।
আরও পড়ুন:
ই-রিকশার দাম ও প্রাপ্তিস্থান (Price and Availability of E-rickshaw)
নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব এই অটোরিকশাটির দাম ও প্রাপ্তিস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল ছিল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন:
নির্ধারিত মূল্য (Fixed Price): নতুন প্রতিটি ই-রিকশার দাম ধরা হয়েছে ২,০০,০০০ টাকা (২ লাখ টাকা)।
যেভাবে কেনা যাবে (Where to buy): নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে এই ই-রিকশা কেনা যাবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী রিকশাগুলো প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুডহোপ মোটরস (GoodHope Motors), যারা বুয়েট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে এটি বাজারজাত করছে।
ব্যাটারি ব্যয় (Battery Cost): এতে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারির দাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, যা দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব।
১৬টি বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এই রিকশাগুলো নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা মহাসড়কে (Highways) যেতে পারবে না।
আরও পড়ুন:
কেন এটি প্রচলিত রিকশার চেয়ে সেরা? (Why is it better)
বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী ব্যাটারি রিকশাগুলো মূলত প্যাডেল রিকশার ওপর মোটর লাগিয়ে তৈরি, যা অত্যন্ত ভারসাম্যহীন। অন্যদিকে, বুয়েটের এই রিকশাটি একটি প্রকৃত বাহন (Unified Vehicle) হিসেবে নকশা করা হয়েছে। এটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম এবং এক চার্জে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে।
বুয়েটের উদ্ভাবিত আধুনিক ই-রিকশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা নানা কৌতূহল ও প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: বুয়েটের নকশা করা ই-রিকশাটির দাম কত?
উত্তর: নতুন এই ই-রিকশাটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,০০,০০০ (২ লাখ) টাকা।
প্রশ্ন: এই রিকশাটি সাধারণ ব্যাটারি রিকশার চেয়ে আলাদা কেন?
উত্তর: এটি প্রচলিত রিকশার মতো জোড়াতালি দেওয়া নয়, বরং বুয়েটের প্রকৌশলীদের দ্বারা বিশেষভাবে নকশা করা একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বাহন যাতে ১৬টি আধুনিক ফিচার রয়েছে।
প্রশ্ন: বুয়েট ই-রিকশায় কী ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: এতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী লিথিয়াম-আয়ন (Lithium-ion) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন:একবার ফুল চার্জ দিলে রিকশাটি কত কিলোমিটার চলতে পারে?
উত্তর: এক চার্জে এই রিকশাটি প্রায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
প্রশ্ন: রিকশাটি পূর্ণ চার্জ হতে কত সময় লাগে?
উত্তর: আধুনিক চার্জিং সিস্টেমের কারণে এটি মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণ চার্জ হয়ে যায়।
প্রশ্ন: এই রিকশার ব্রেকিং সিস্টেম কতটা নিরাপদ?
উত্তর: এতে তিনটি চাকাতেই শক্তিশালী হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ।
প্রশ্ন: বুয়েট ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?
উত্তর: নিরাপত্তার খাতিরে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: রিকশাটি কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে?
উত্তর: ঢাকার নির্দিষ্ট ৩টি অনুমোদিত শোরুম থেকে এই রিকশা কেনা যাবে (যেমন: গুডহোপ মোটরস)।
প্রশ্ন: এই রিকশা কি মহাসড়কে চলতে পারবে?
উত্তর: না, এটি শুধু সিটি করপোরেশন নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি রয়েছে যা মহাসড়কে প্রবেশ করলে সতর্ক করবে।
প্রশ্ন: চালকদের জন্য কি বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে ১২ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২ লাখ চালককে ট্রাফিক আইনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: রিকশাটি কতটুকু ওজন বহন করতে পারে?
উত্তর: এটি চালকসহ ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন অনায়াসেই বহন করতে পারে।
প্রশ্ন: বৃষ্টি বা রোদে চালক ও যাত্রীদের জন্য কী সুবিধা আছে?
উত্তর: রিকশাটিতে একটি মজবুত ছাদ এবং সামনে স্বচ্ছ উইন্ডশিল্ড (Glass Windshield) রয়েছে, যা বৃষ্টি ও ধুলোবালি থেকে সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: এই রিকশা কি পরিবেশবান্ধব?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত হওয়ায় কোনো ধোঁয়া বা বায়ুদূষণ ঘটায় না এবং এতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সীসাযুক্ত ব্যাটারি নেই।
প্রশ্ন: রিকশাটি কি উল্টে যাওয়ার ভয় আছে?
উত্তর: না, এর চেসিস এবং চাকার ভারসাম্য এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি মোড় নেওয়ার সময় বা দ্রুত গতিতে চললেও উল্টে না যায় (রোলওভার প্রটেকশন)।
প্রশ্ন: রিকশা কেনার জন্য কি কোনো ব্যাংক ঋণের সুবিধা আছে?
উত্তর: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শোরুমগুলো সহজ কিস্তিতে বা ঋণের মাধ্যমে রিকশাটি বিতরণের পরিকল্পনা করছে যাতে সাধারণ চালকরা এটি সহজে কিনতে পারেন।




