একদিন আগেই সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি হত্যাযজ্ঞের কারিগর হিসেবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। জানান, বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে তার অপারগতার কথা।
কিন্তু তা বলে নেতানিয়াহু’র নিউ ইয়র্ক সফরে কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না মেয়র, এমনটাও বিশ্বাস করতে পারছেন না ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেও নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান ‘উইং অব জায়ন’ অবতরণ করবে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি বা নিউআর্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
আরও পড়ুন:
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম জানায়, মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে জটিলতা এবং নেতানিয়াহু’র অবর্তমানে তার বিমানটিকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে মামদানি প্রশাসন- এমন উদ্বেগ কাজ করছে। তাই নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতানিয়াহু, থাকবেন না এক রাতও। মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে দেখা করতে টেক্সাস যাওয়ার কথা থাকলেও বাতিল হয়েছে সে পরিকল্পনাও।
মামদানির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সমর্থন এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ করেছেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, ‘ধিক্কার আপনাকে মামদানি। হামাসের সন্ত্রাসী দানবগুলোকে সমর্থন জানানোর জন্য ধিক্কার আপনার প্রতি। ওরা আমাদের নাগরিকদের হত্যা করেছে। নিউ ইয়র্কে ইহুদিদের প্রতি দাঙ্গা উসকে দেয়ার জন্য আপনার প্রতি নিন্দা জানাই। আমি আসছি জাতিসংঘে। সেখানে আমি আমাদের বীরোচিত সেনাদের বাস্তবতা তুলে ধরবো, আপনার সত্যতা উন্মোচন করবো।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলায় প্রাণ হারায় ১২শ’ মানুষ। এরপর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দুই বছর ধরে নির্বিচার বিমান হামলা আর স্থল অভিযান চালিয়ে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে নেতানিয়াহু প্রশাসন। আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু।




