রং পেন্সিল আর খেলায় মেতে থাকার বয়সে সঙ্গী সুই-সুতো। চার বছর বয়সে সেলাই শুরু করা মার্কিন শিশু ম্যাক্স আলেকজান্ডারের বয়স এখন ১০। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে খ্যাতি অর্জন করেছে দু’বার। পোশাকে নান্দনিকতার ছোঁয়া আর তারকা ডিজাইনার হিসেবে সুনাম ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও।
২০২৩ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে ডেনভার ফ্যাশন উইকের পোশাক তৈরি করে; প্রথম গিনেস রেকর্ড গড়েন আলেকজান্ডার। চলতি বছরের মার্চে প্যারিস ফ্যাশন উইকে সর্বকনিষ্ঠ ডিজাইনার হিসেবে পোশাক প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অর্জন করেন আরও একটি রেকর্ড।
ম্যাক্স আলেকজান্ডার বলেন, ‘প্যারিসে সর্বকনিষ্ঠ ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করাটা খুবই আনন্দের মুহূর্ত ছিলো। আমি এর জন্য অনেক কৃতজ্ঞ। খুব মজার ফ্যাশন শো ছিল এটি। আমার ১৫টি পোশাক প্রদর্শন করা হয়েছে। অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।’
আরও পড়ুন:
এখন ফ্যাশন ডিজাইনার স্কুল থেকে বড় বড় ফ্যাশন-শো মাতাচ্ছেন নিজের নকশা করা পোশাকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাড়িতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন পোশাকে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলার অজানা গল্প।
ম্যাক্স আলেকজান্ডার বলেন, ‘আমি চার বছর বয়সে ডিজাইন করা শুরু করি, কিন্তু আমি জানি না এটা কীভাবে শুরু হয়েছিল। আমি সম্ভবত এমনিতেই এটা শুরু করেছিলাম। আমার বাবা-মাও তাই বলেন। তখন ফ্যাশন নিয়ে আমার কোনো স্বপ্নও ছিল না।’
পোশাক ডিজাইনে চারপাশের পরিবেশ থেকে অনুপ্রেরণা এবং টেকসই উপকরণে গুরুত্ব দেন বলেও জানান, কম বয়সে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বনে যাওয়া ম্যাক্স আলেকজান্ডার। যার মধ্য দিয়ে অবদান রাখতে চান প্রাকৃতিক ভারসাম্যে।
তিনি বলেন, ‘আমার মা কফি ভালোবাসেন, তাই আমি ভাবলাম, কফি বিনের বস্তা দিয়ে পোশাক তৈরি করলে কেমন হয়? যা ব্যবহার শেষে মাটিতে পুঁতে দিলে পচে যায়। এতে আমাদের গ্রহেরও উপকার হবে, দূষণ কমবে।’
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ম্যাক্স লেবেল। এই নামেই এখন তার ডিজাইন করা পোশাক বিক্রি হচ্ছে দেশ-বিদেশে। শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, হলিউড তারকা শ্যারন স্টোন পর্যন্ত তাঁর ডিজাইনের পোশাক পরেছেন। আলেকজান্ডারের ডিজাইন করা পোশাকের মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ এবং শিশুদের জন্য পায়জামা, টি-শার্ট, হুডি এবং আরও অনেক কিছু।





